ডিজিটাল গোল্ডে বিনিয়োগের ফাঁদ! ব্যবসায়ীর ৩.৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র, চাঞ্চল্য নয়ডায়

ডিজিটাল সোনা বা গোল্ড ট্রেডিংয়ের নামে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এক চামড়া ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩.৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। চাঞ্চল্যকর এই সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে নয়ডা পুলিশ।
প্রতারণার সূত্রপাত:
সেক্টর ১৫০-এর বাসিন্দা পেশায় চামড়া ব্যবসায়ী রবি গত বছরের শেষে হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার ট্রেডিং সংক্রান্ত একটি বার্তা পান। সেই বার্তার সূত্র ধরেই ‘রিয়া’ নামে এক মহিলার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। নিজেকে সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ওই মহিলা রবিকে ‘SGS’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করেন। সেখানে ডিজিটাল গোল্ড ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বিপুল মুনাফা অর্জনের ভুয়ো স্ক্রিনশট দেখিয়ে রবির বিশ্বাস অর্জন করা হয়।
যেভাবে ফাঁদে ফেলা হলো:
প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস রেখে রবি একটি ট্রেডিং অ্যাপ ডাউনলোড করেন। গত ১৯ এপ্রিল তিনি প্রথম ধাপে ৪৪,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাপটিতে ১৯,০০০ টাকা মুনাফা দেখানো হয় এবং সেই টাকা তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ছোট অঙ্কের এই লেনদেনে প্রতারকদের ওপর পুরোপুরি আস্থা জন্মে যায় রবির।
২১ বারে ৩.৬ কোটি টাকা লুট:
একবার আস্থা অর্জনের পরই শুরু হয় আসল খেলা। গত ২৬ মে পর্যন্ত রবি মোট ২১টি পৃথক লেনদেনে মোট ৩.৬ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেন। অ্যাপের ড্যাশবোর্ডে রবির বিনিয়োগ ৬ কোটি টাকায় পৌঁছালেও, টাকা তোলার সময় বিপত্তি ঘটে। যখনই তিনি তহবিল উত্তোলনের চেষ্টা করেন, অভিযুক্ত মহিলা তাঁকে আরও বিনিয়োগের জন্য চাপ দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়ে ওই মহিলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পুলিশি তদন্ত:
নিজের সর্বস্ব খুইয়ে রবি শেষ পর্যন্ত ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম পোর্টাল এবং নয়ডা সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ডিসিপি (সাইবার সিকিউরিটি) জানিয়েছেন, যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা পাঠানো হয়েছিল, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সতর্কবার্তা:
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাইবার পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ বিজয় সিং রানা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, “সাইবার প্রতারকরা সাধারণত প্রথমেই অল্প বিনিয়োগে সামান্য লাভ দেখিয়ে টোপ দেয়। মানুষের বিশ্বাস অর্জনের পর তারা বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। অপরিচিত কোনো হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা ট্রেডিং অ্যাপে বিনিয়োগের আগে সর্বদা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।”