‘প্রেমের ওপর বিশ্বাস হারাইনি’, ভরত তাখতানির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মুখ খুললেন এষা দেওল

দীর্ঘ ১১ বছরের দাম্পত্যের পর ভরত তাখতানির সঙ্গে বিচ্ছেদ, স্বাভাবিকভাবেই জীবনের এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন অভিনেত্রী এষা দেওল। তবে সব তিক্ততা কাটিয়ে নতুন করে জীবনকে দেখছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রেম, ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারের সমর্থন নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনীর কন্যা।

‘রোম্যান্স ভীষণ মিস করছি’
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাবজাত রোম্যান্টিক সত্তার কথা তুলে ধরে এষা বলেন, “একজন মানুষের জীবনে প্রেম ও রোম্যান্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি এই মুহূর্তে তা ভীষণ মিস করছি। আমি আদতে ‘রম-কম’ (রোম্যান্টিক-কমেডি) ঘরানার মানুষ। প্রেমের গল্প পড়তে বা গান শুনতে বরাবরই ভালোবাসি।”

বিচ্ছেদ নিয়ে পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি
বিচ্ছেদের পর প্রেমের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে এষা বলেন, “একেবারেই না। বিচ্ছেদ জীবনেরই অংশ। অতীতেও আমার সম্পর্ক ভেঙেছে। কিন্তু তাই বলে ভালোবাসার মূল ধারণাটা বদলে যায় না। আমাদের বাবা-মা (হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্র) একে অপরকে যেভাবে ভালোবেসেছেন, সেই নিঃশর্ত ভালোবাসার উদাহরণ দেখেই আমরা বড় হয়েছি।”

পরিবারের পাশে থাকা
ভরত তাখতানির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো কঠিন সিদ্ধান্তে পরিবার তাঁকে কতটা সমর্থন জুগিয়েছে, সে কথাও ভাগ করে নিয়েছেন এষা। তাঁর কথায়, “পুরো দেওল পরিবার আমার এই সিদ্ধান্তে পাশে ছিল।” বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তিনি মুখ খুলতে না চাইলেও জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, “আমাদের পেশায় সবকিছুই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। কিন্তু এই পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের সন্তানরা জড়িত, তাই প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সাবধানে ফেলতে হয়েছে।”

আকস্মিক বিচ্ছেদ
২০১২ সালে ব্যবসায়ী ভরত তাখতানির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন এষা। ১১ বছর পর, ২০২৪ সালের শুরুতে এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে তাঁরা বিচ্ছেদের ঘোষণা করেন। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান—রাধ্যা এবং মীরায়াকে বড় করে তোলাই এখন তাঁদের জীবনের মূল অগ্রাধিকার।

জীবনের এই কঠিন অধ্যায় পার করে এষা এখন যেভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছেন, তা তাঁর অগণিত ভক্তদের নজর কেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *