‘৫ জুলাই বিয়ের বরযাত্রী হয়ে ফিরব’—কথা রাখা হলো না রোহিতের, নিথর দেহ ফিরল গ্রামে

তারাতলার বি২ ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের গোডাউন ধসে পড়ার ঘটনায় কেড়ে নিল এক তরুণের রঙিন স্বপ্ন। পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা আর সবজি বিক্রেতা মায়ের সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন ২০ বছরের রোহিত চৌধুরী। বিদেশ গিয়ে মোটা বেতনের চাকরি করবেন—এই স্বপ্ন নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থেকে কলকাতায় পা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন লোহা-কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপে চিরতরে চাপা পড়ে গেল।

স্বপ্ন ছিল বিদেশে কাজ করার: রোহিতের মাসতুতো দিদি নেহা চৌধুরী জানান, মাত্র ২০২৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা রোহিতের ইচ্ছা ছিল আইটিআই-তে ফিটার ট্রেড নিয়ে পড়াশোনা করে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। টাকা জমানোর আশায় মাত্র ছ’মাস আগে মামার সঙ্গে কলকাতার তারাতলায় কাজে যোগ দেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেলেও মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে বলেছিলেন, “মা চিন্তা কোরো না, ৫ জুলাই কাকার বিয়েতে বরযাত্রী হয়ে বাড়ি ফিরব।” সেই প্রতিশ্রুতি আর রাখা হল না। বৃহস্পতিবার নিথর দেহ পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা গাজীপুর গ্রাম।

অনিশ্চয়তায় আরও একটি পরিবার: একই দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন রোহিতের প্রতিবেশী ২২ বছরের রামপ্রসাদ চৌধুরী। তিনিও ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বাবার মৃত্যুর পর দুই দিদির বিয়ে দেওয়া ও সংসারের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। কোমরের হাড় ভেঙে যাওয়া ও মাথায় গুরুতর চোট পাওয়া রামপ্রসাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন গুনছেন তাঁর মা যামিনী দেবী। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “অভাব ঘোচাতে গিয়েই আজ ছেলে পঙ্গু হওয়ার মুখে!”

প্রশাসনের কাছে বিচারের দাবি: তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একদিকে যেমন নিভে গেল এক তরুণের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, তেমনই অনিশ্চিত হয়ে পড়ল আরও একটি পরিবারের ভাগ্য। স্থানীয়দের একটাই দাবি, শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অসাধু চক্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ার দায়ভার কে নেবে? এখন সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *