“৭ দিনের মধ্যে না ভাঙলে গুঁড়িয়ে দেব!” ক্যাফের সামনে হাজার সমর্থক নিয়ে হুঙ্কার আরাবুলের

ক্যানিংয়ের মৌখালিতে মাতলা নদীর চরে অবস্থিত শওকত মোল্লার ছেলের ক্যাফে ‘অরণ্যের কূলে’ নিয়ে এবার সরাসরি পথে নামলেন আইএসএফ নেতা আরাবুল ইসলাম। রাজ্য প্রশাসনের তরফে ক্যাফেটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলেও, দীর্ঘ কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কার্যত পুলিশের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে হাজার খানেক সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে ক্যাফের সামনে পৌঁছে যান আরাবুল।
কী অভিযোগ?
দীর্ঘদিন ধরেই শওকত মোল্লার ছেলে ইমরানের এই ক্যাফে ঘিরে স্থানীয় মহলে ক্ষোভ রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, নদীর চর দখল করে কীভাবে এমন নির্মাণ সম্ভব হলো। আরাবুল ইসলাম বিষয়টিকে শওকত মোল্লার পরিবারের ‘ফ্যামিলি প্রজেক্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
আরাবুলের হুঁশিয়ারি
বৃহস্পতিবার সকালে বাইক মিছিল করে ক্যাফের সামনে পৌঁছে আরাবুল দেখেন, ক্যাফেটি আগের মতোই সচল। ক্ষুব্ধ আইএসএফ নেতা বলেন, “এসে দেখলাম ক্যাফের ভেতর অনেকে আয়েশ করে খাওয়াদাওয়া করছে। আমরা সরেজমিনে তদন্ত করতে এসেছি। পুলিশ যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে সাধারণ মানুষই আইন হাতে তুলে নিতে বাধ্য হবে।”
সরাসরি আল্টিমেটাম দিয়ে আরাবুল বলেন, “আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি ক্যাফে না ভাঙা হয়, তবে রেলিংয়ের একটা খুঁটিও আস্ত থাকবে না। জনগণ নিজেরাই তা ভেঙে গুড়িয়ে দেবে।”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তাকে হাতিয়ার করে এদিন আরাবুলের মিছিল ও তার জেরে ক্যানিং এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাইক মিছিলে অংশগ্রহণকারী অনেক সমর্থকের মাথায় হেলমেট না থাকায় তা নিয়েও সমালোচনার সুর উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়িয়ে আরাবুলের এই অভিযান ক্যানিংয়ের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
শওকত মোল্লার পরিবারের বিরুদ্ধে এমন সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আইএসএফ কি এলাকায় নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে চাইছে? উঠছে সেই প্রশ্নও। এখন প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।