৬০ কিমি পথ পেরিয়েও গলল না স্ত্রীর মন! শ্বশুরবাড়ির পানের দোকানের পাশেই যুবকের চরম সিদ্ধান্ত, তোলপাড় ধমতরি

“সাত জনম একসাথে থাকার” প্রতিজ্ঞা ছিল তাদের। কিন্তু দাম্পত্যের অহংকার আর ক্ষণিকের রাগ যে একটি সাজানো পরিবারকে এভাবে তছনছ করে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যাওয়া স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু স্ত্রীর জেদের কাছে পরাস্ত হয়ে, শেষমেশ শ্বশুরবাড়ির দোরগোড়াতেই এক মর্মান্তিক পথ বেছে নিলেন তিনি। ছত্তিশগড়ের ধমতরি জেলার মাগারলোড থানা এলাকার এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মৃত যুবকের নাম দীপেশ প্যাটেল (৩৫)। তিনি মহাসমুন্দ জেলার মুরকি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ধমতরি জেলার মেঘা গ্রামের এক তরুণীর সাথে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল তাঁর।
সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ৬০ কিলোমিটারের সেই সফর
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের প্রথম দিকে দীপেশ ও তাঁর স্ত্রীর সংসার ভালোই কাটছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে দুজনের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ ও অশান্তি বাড়তে থাকে। গত ১৪ই জুন ঝগড়া চরমে পৌঁছালে দীপেশের স্ত্রী ঘর ছেড়ে মেঘা গ্রামে বাপের বাড়ি চলে আসেন।
স্ত্রী চলে যাওয়ার পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হন দীপেশ। সম্পর্কের ভাঙন জোড়া লাগাতে গত ২০শে জুন নিজের গ্রাম থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন তিনি। স্ত্রীকে বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টাও করেন, জানান নিজের একাকিত্বের কথা। কিন্তু এত কিছুর পরেও স্ত্রীর মন গলেনি, তিনি স্বামীর সাথে ফিরতে সাফ অস্বীকার করেন।
শ্বশুরবাড়ির সামনেই শেষ পরিণতি, চাঞ্চল্য এলাকায়!
স্ত্রীর বারবার এই প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারেননি দীপেশ। গভীর অবসাদ ও হতাশায় ডুবে যান তিনি। এরপর শ্বশুরবাড়ির ঠিক ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে, একটি পানের দোকানের পাশে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে গ্রামবাসীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মাগারলোড থানার পুলিশ পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মাদকাসক্তি নাকি পরকীয়ার সন্দেহ? মুখ খুলল পুলিশ
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে ধমতরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ASP) শৈলেন্দ্র পান্ডে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানান, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত যুবক দীপেশ মারাত্মক মাদকাসক্ত ছিলেন। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর চরিত্র নিয়েও তাঁর মনে গভীর সন্দেহ ছিল, যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই তীব্র অশান্তি হতো।”
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার করতে পারেনি। তবে এই আত্মহত্যার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে মৃতের পরিবার ও তাঁর স্ত্রীর বয়ান রেকর্ড করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা গ্রামে এখন শুধুই কান্নার রোল।