এক নিমেষেই শেষ ৪ বোনসহ ৫টি তাজা প্রাণ! বাড়িতে পুজোর সকালে গঙ্গাতীরে এ কেমন মর্মান্তিক পরিণতি?

বাড়িতে চলছিল পুজোর তোড়জোড়। আনন্দের আবহ ছিল চারদিকে। সেই পুজোরই পুণ্যস্নান সারতে সকালে গঙ্গাতীরে গিয়েছিল তারা। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই বদলে যাবে এক চরম মহাশোকে! বিহারের মুঙ্গের জেলা থেকে উঠে এলো এক বুক ফাটানো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর। গঙ্গায় স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল পাঁচ-পাঁচটি নাবালিকা ও তরুণী। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, মৃতদের মধ্যে চারজনই একই পরিবারের আপন বোন।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুঙ্গেরের বসুদেবপুর থানা এলাকার শ্যামপুর গঙ্গা ঘাটে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো শ্যামপুর গ্রাম যেন শোকের সাগরে ডুবে গেছে।

একজনকে বাঁচাতে গিয়েই ঘটল চরম বিপর্যয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্যামপুরের বাসিন্দা ক্রান্তি পাসওয়ানের চার মেয়ে— সঙ্গীতা কুমারী (১৮), বিনীতা কুমারী (১৬), সন্ধ্যা কুমারী (১৪) ও সোনম কুমারী (১২) এবং তাদেরই প্রতিবেশী চমক লাল পাসওয়ানের মেয়ে হিনা কুমারী (১৯) একসাথে সকালে গঙ্গা ঘাটে স্নান করতে গিয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্নান করার সময় হঠাৎ করেই গভীর জলের খাঁদে পড়ে যায় এক মেয়ে। তাকে ডুবে যেতে দেখে বাকি চার বোন ও বান্ধবী হাত বাড়িয়ে বাঁচাতে ছুটে যায়। কিন্তু গঙ্গার প্রবল স্রোত আর অতল গভীরতার কাছে তারা পরাস্ত হয়। চোখের পলকে প্রবল টানে পাঁচজনকেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় গঙ্গা। ঘাটে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় এই বিপর্যয়। কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দিয়েও তীব্র স্রোতের কারণে তাদের নাগাল পাননি।

‘বাড়িতে পুজোর আয়োজন চলছিল…’, ডুকরে কাঁদছেন ভাই
মৃত মেয়েদের ভাই সাগর কুমার কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, বাড়িতে একটি পারিবারিক পুজোর অনুষ্ঠান ছিল। সেই কারণেই দিদি ও বোনেরা সকালে গঙ্গায় পবিত্র স্নান সারতে এসেছিল। একজন ডুবতে শুরু করায় বাকিরা তাকে বাঁচাতে গিয়ে গভীর জলে নেমে পড়ে। একসঙ্গে চার সন্তানকে হারিয়ে মা-বাবার এখন পাগলপ্রায় অবস্থা। পুরো পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ, নামানো হলো NDRF
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে নিখোঁজ মেয়েদের সন্ধানে দ্রুত নামানো হয়েছে NDRF (ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স), SDRF এবং স্থানীয় পেশাদার ডুবুরিদের।

প্রশাসন সূত্রে খবর, বর্ষার মরশুমে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়া এবং জলের তীব্র গতিবেগের কারণে উদ্ধারকার্যে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও নিখোঁজদের দেহ উদ্ধারে কোনো খামতি রাখছেন না উদ্ধারকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং উদ্ধারকাজে যাতে কোনো বাধা না আসে, সেজন্য শ্যামপুর ঘাটে সাধারণ মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি পরিবার নয়, গোটা মুঙ্গের জেলাকে স্তব্ধ ও স্তমিত করে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *