বছরের সবচেয়ে বড় একাদশী! ১ ফোঁটা জল খেলেও কি ভেঙে যায় ব্রত? প্রথমবার উপবাস করার আগে জানুন এই ৫ কড়া নিয়ম

সনাতন ধর্মে একাদশী ব্রতের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে সব একাদশীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘নির্জলা একাদশী’। শাস্ত্রে বলা হয়, কেউ যদি সারা বছর অন্য কোনো একাদশী পালন করতে নাও পারেন, তবে শুধুমাত্র এই একটি একাদশী নিয়ম মেনে পালন করলেই বছরের সবকটি একাদশী পালনের সমান পুণ্যফল লাভ করা সম্ভব।

২০২৬ সালে এই মহাপুণ্যদায়ী নির্জলা একাদশীর ব্রত পালিত হবে আগামী ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার। বছরের সবচেয়ে বড় একাদশী হওয়ায় এর নিয়মকানুনও বেশ কঠিন। আপনি যদি এবারই প্রথম এই ব্রত রাখার কথা ভেবে থাকেন, তবে ভুলেও এই জরুরি নিয়মগুলো এড়িয়ে যাবেন না। আসুন জেনে নেওয়া যাক শাস্ত্রীয় সেই ৫ কড়া নিয়ম…

১. ব্রতের আগে ‘সংকল্প’ নেওয়া বাধ্যতামূলক
ধর্মগ্রন্থে স্পষ্ট বলা আছে, যেকোনো ব্রত বা পুজো শুরু করার আগে তার জন্য সংকল্প করা উচিত। নির্জলা একাদশীর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিন। এরপর পুজোয় বসার আগে হাতে সামান্য জল, অক্ষত (চাল) এবং ফুল নিয়ে ব্রতের সংকল্প করুন। আপনার মনে যদি বিশেষ কোনো ইচ্ছা বা মনস্কামনা থাকে, তবে সংকল্প করার সময় মনে মনে ভগবান বিষ্ণুর কাছে তা অবশ্যই ব্যক্ত করুন।

২. এক ফোঁটা জলও পান করা চলবে না!
নামের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এই ব্রতের আসল রহস্য— ‘নির্জলা’, অর্থাৎ জল ছাড়া। সাধারণত অন্য যেকোনো উপবাসে ফল বা জল পানের অনুমতি থাকে, কিন্তু এই একাদশীর নিয়ম অত্যন্ত কঠোর। সূর্যোদয় থেকে শুরু করে পরের দিন দ্বাদশীর পারণ পর্যন্ত মুখে এক ফোঁটা জলও দেওয়া বারণ। তবে শাস্ত্র অনুযায়ী, বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা এই নিয়মের বাইরে। তাঁরা নিজেদের শরীরের অবস্থা বুঝে জল বা ফল খাবেন।

আরও পড়ুন:

Parama Ekadashi 2026: কবে পালিত হবে পরমা একাদশী? জেনে নিন সঠিক দিন ও নিয়মকানুন

Ekadashi 2026: এপ্রিলে জোড়া একাদশী, কবে পড়েছে বরুথিনী ও মোহিনী ব্রত? তারিখ জানুন

৩. নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকুন
নির্জলা একাদশী ব্রত চলাকালীন শুধু পেট খালি রাখলেই চলে না, মনকেও শুদ্ধ রাখতে হয়। এই দিনে কারও প্রতি রাগ, হিংসা বা মনে কোনো নেতিবাচক চিন্তা আনা একদম উচিত নয়। ঝগড়া-বিবাদ, মিথ্যা কথা বলা এবং পরনিন্দা-পরচর্চা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার চেষ্টা করুন। তবেই ব্রতের আসল শুভ ফল আপনার ঝুলিতে আসবে।

৪. খাবারের কথা মনেও আনবেন না
এই উপবাসে অন্ন বা খাবার খাওয়া যেমন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তেমনই মনের ভুলেও খাবারের কথা চিন্তা করা উচিত নয়। মনে করা হয়, ব্রত রেখে বারবার খাবারের কথা ভাবলে ব্রতের পুণ্যফল অনেকটাই কমে যায়। এই সময়ে মন শান্ত রেখে যতটা সম্ভব মনে মনে ভগবান বিষ্ণুর মূল মন্ত্র ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ জপ করতে থাকুন।

৫. দুঃস্থদের দান ছাড়া ব্রত অধরা!
শাস্ত্রে বলা হয়েছে, দান ধ্যান ছাড়া নির্জলা একাদশী ব্রত কখনই সম্পূর্ণ হয় না। এই বিশেষ দিনে তীব্র গরমের হাত থেকে স্বস্তি দিতে জলভরা মাটির কলসি, ছাতা, হাতপাখা, বস্ত্র, মরশুমী ফল বা শস্য দুঃস্থ মানুষদের দান করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়। অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে জগতপতি শ্রী হরি বিষ্ণু অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং জাতকের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরিয়ে দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *