মমতার তৈরি দল থেকে মমতাকেই ‘বাদ’? ১৯৯৮-এর নেত্রীকে সরিয়ে নেতৃত্বে অরূপ-ববি?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নাটকীয় মোড়! ১৯৯৮ সালে যাঁর নেতৃত্বে দল তৈরি হয়েছিল, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নতুন কমিটির তালিকা থেকে সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের বিদ্রোহী শিবির। সোমবার গঠিত ৩০ জনের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটিতে মমতা বা অভিষেক—কারও নাম বা ছবি, কোনোটিরই ঠাঁই হয়নি।

প্রতিশ্রুতির খেলাপ নাকি পরিকল্পিত কৌশল? কয়েক সপ্তাহ আগেই পাঁচলার বিধায়ক গুলশান মল্লিক দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘পথপ্রদর্শক’ বলায় তারা সন্তুষ্ট নন, কারণ তিনি তাঁদের ‘নেত্রী’। কিন্তু সোমবারের বিশেষ অধিবেশনে সেই ছবি পুরোপুরি বদলে গেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী দূরে থাক, কমিটির ধারেকাছেও রাখা হলো না। ব্যানারে জায়গা পেলেন গান্ধীজি, আম্বেদকর, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল—কিন্তু তৃণমূলের জননীর ছবি সেখানে উধাও।

মমতার ঘনিষ্ঠরাই যখন বিদ্রোহী: সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সোমবার গঠিত নতুন কমিটিতে চেয়ারম্যান করা হয়েছে অরূপ রায়কে এবং সহ-সভাপতি পদে রাখা হয়েছে ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসকে। দীর্ঘদিন ধরে এই অরূপ-ববি জুটিই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান রাজনৈতিক ভরসা। তারাই আজ সর্বসম্মতিক্রমে মমতাকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করলেন।

নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের বক্তব্য, “১৯৯৮ সাল থেকে আমরা যে লড়াই করেছি, সেই লড়াই নতুন করে শুরু করতে হবে। কর্মীদের সম্মান রক্ষা করাই এখন আমাদের লক্ষ্য।”

কী যুক্তি দিচ্ছে নব্য তৃণমূল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দেওয়ার বিষয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা দাবি করেছেন, “আমরা এখনও বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকুন।” কিন্তু ব্যানারে মমতার ছবি না থাকা এবং কমিটিতে তাঁর নাম না থাকার বিষয়টি এই দাবিকে ধোপে টিকতে দিচ্ছে না। সন্দীপনের সাফাই, নতুন ব্যানারে দেশের জনক ও দিশারীদের ছবি রাখা হয়েছে। যদিও প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের জন্মদাতা যে নেত্রী, তাঁকে সরিয়ে দিয়ে ‘তৃণমূল’ নামটা তারা কতটা আইনত ব্যবহার করতে পারবেন?

তৃণমূলের অস্তিত্বের লড়াই: ফিরহাদ হাকিম বা অরূপ বিশ্বাসের মতো নেতারা মমতাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা বলছেন, এটা শুধু রাজনৈতিক বিচ্ছেদ নয়, তৃণমূলের ভেতরকার পুরোনো অনুগতদের সঙ্গে মমতার চূড়ান্ত বিচ্ছেদ। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর তৈরি দল কীভাবে ফেরাবেন, নাকি ঋতব্রতদের এই নতুন কমিটিই দলের দখল নেবে—সেটাই এখন বাংলার রাজনীতির সবথেকে বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *