তৃণমূলের অন্দরে কি কোণঠাসা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়? শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার জল্পনা তুঙ্গে!

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ‘আইনি মুখ’ এবং শ্রীরামপুরের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্কের সমীকরণ কি তবে বদলাচ্ছে? সম্প্রতি দলের ভেতর থেকেই এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প হিসেবে নতুন আইনজীবীদের সামনে আনার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব, যা নিয়ে দলের অন্দরেই চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

পুরনো সমীকরণ ও সাম্প্রতিক সংকট:
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে রিজওয়ানুর রহমান মামলা—দলের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দেখা গিয়েছে। তবে গত কয়েক মাস ধরে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। একসময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য এবং পরে তা মিটিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ফের সেই দূরত্বের আঁচ পাওয়া গেল।

বিতর্কের মূলে কী?
জানা গিয়েছে, তৃণমূল নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বা তাঁর পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ মানেকা গুরুস্বামীকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানিয়েছেন বলেই খবর। দলের দীর্ঘদিনের এই আইনি মুখ মনে করছেন, এভাবে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস তাঁর ভূমিকাকে খর্ব করার অপপ্রয়াস কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

কেন এই জল্পনা গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের মতো একাধিক বড় আইনি লড়াইয়ে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে দলের সবথেকে বড় আইনি সারথির সঙ্গে নেতৃত্বের মতবিরোধ সামনে আসাটা তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মানেকা গুরুস্বামীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইলেও, কল্যাণের মতো প্রবীণ নেতাকে একঘরে করার প্রক্রিয়া দলের অভ্যন্তরেই ফাটল তৈরি করতে পারে।

দলের নীরবতা:
যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করা হয়নি, তবুও এই নতুন সমীকরণকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরেও চর্চা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরের এই অসন্তোষ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *