‘মোদীর ভক্ত’! শশী থারুরের মন্তব্যে হাত শিবিরের অস্বস্তি, রাজনৈতিক মহলে শোরগোল

তৃণমূলের মতো পশ্চিমবঙ্গেই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির পরিসরেও বিরোধী দলগুলোর অন্দরে অস্থিরতা বাড়ছে। উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের দল বা মহারাষ্ট্রে শিবসেনার পরিস্থিতির মতোই এবার কংগ্রেসের অন্দরেও ফাটল স্পষ্ট হলো বর্ষীয়ান সাংসদ শশী থারুরের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে দলেরই শীর্ষ নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন এই তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ।

ঘটনার সূত্রপাত:
সম্প্রতি ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের আবহে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাক্ষাৎ নিয়ে শশী থারুরের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু তাঁর এই ‘প্রশস্তি’ মোটেও ভালো চোখে দেখেননি দলের অন্য নেতারা।

পবন খেরার তীক্ষ্ণ কটাক্ষ:
থারুরের এই বক্তব্যের পর চুপ থাকেননি কংগ্রেসের অপর নেতা পবন খেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি রীতিমতো বিদ্রূপের সুরে লেখেন, “প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমার সিনিয়র সতীর্থ শশী থারুরের মুগ্ধতা বাস্তব জগতের সব সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে গিয়েছে।” সরকারি নথিতে যা নেই, তা থারুর কীভাবে শুনতে পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন তুলে পবন খেরা সরাসরি আক্রমণ করেন থারুরকে। তাঁর মতে, সরকারি প্রতিলিপিতে ওমান উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের হত্যার উল্লেখ না থাকলেও, থারুর সেখানে মোদীর ‘জোরালো বক্তব্য’ শুনতে পেয়েছেন, যা আসলে রাজনৈতিক দৃষ্টিভ্রমের ফল।

থারুরের সাফাই:
পাল্টা জবাবে শশী থারুর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাননি, বরং অসামরিক নাবিকদের সুরক্ষার মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মাত্র। থারুরের কথায়, “যদি কেউ এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের সমাধানের বদলে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাতেই বেশি আগ্রহী হন, তাহলে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।” বিতর্ক এড়াতে তিনি একটি ইউটিউব ভিডিও-ও শেয়ার করেছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
উল্লেখ্য, গত দুই বছরে একাধিকবার দলের অবস্থানের বিপরীতমুখী মন্তব্য করে হাইকম্যান্ডের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন শশী থারুর। তৃণমূলের বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা বা সমাজবাদী পার্টির বিদ্রোহের আবহে কংগ্রেসের এই অন্তর্কলহ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *