‘নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতেই আমার সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছেন মেলোনি!’ ট্রাম্পের নয়া বিস্ফোরক মন্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে কূটনৈতিক তিক্ততা এখন চরমে। জি-৭ সম্মেলনের ‘ছবি বিতর্ক’ ছাপিয়ে এবার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, মেলোনি নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চাইছেন, তবে একই সঙ্গে ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে ‘ইরান-পন্থী’ বলে তোপ দেগেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের নয়া অভিযোগ: ‘গল্প বানাচ্ছেন মেলোনি’
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের সময় মেলোনি বারবার তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইতালিতে নিজের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে, তাই রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তিনি আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের নাটক করছেন।” ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, ইতালির বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে মেলোনি মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছেন। তাঁর মতে, ইতালিকে রক্ষা করতে আমেরিকা প্রতি বছর শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করলেও, বিনিময়ে মেলোনি ইরানকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে ওয়াশিংটনকে লজিস্টিক সমস্যায় ফেলছেন।
মেলোনির পালটা হুঙ্কার: ‘আমরা ভিক্ষা করি না’
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের এই বানোয়াট দাবিতে যথেষ্ট অবাক। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে মেলোনি লেখেন, “ইতালি এমন কোনো দেশ নয় যে অন্যের দয়ায় চলে। আমরা কারো কাছে কোনো কিছুর জন্য ভিক্ষা করি না।” পশ্চিমা বিশ্বের এক নেতার প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আচরণকে তিনি ‘অত্যন্ত অবমাননাকর’ বলে অভিহিত করেছেন।
কেন সংকটে ইতালি-মার্কিন সম্পর্ক?
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের মূলে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ:
-
ইরান নীতি: ট্রাম্প প্রশাসন ইরানবিরোধী কঠোর অবস্থানের পক্ষপাতি, কিন্তু মেলোনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ভিন্নতা থাকায় ওয়াশিংটন খুশি নয়।
-
ন্যাটোর ভূমিকা: ন্যাটোর মিত্র হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন সামরিক অভিযান বা লজিস্টিক সহায়তায় ইতালি তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের মনে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের দুই শক্তিশালী নেতার এই প্রকাশ্য বিবাদ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বাগযুদ্ধ কি দুই দেশের দীর্ঘদিনের মিত্রতায় চির ধরাবে? প্রশ্ন এখন সেটিই।