হরমুজ খুলল: মার্কিন-ইরান চুক্তির প্রথম দিন কতগুলি জাহাজ পার হলো এই রুট দিয়ে?

দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে খুলে দেওয়া হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ—হরমুজ প্রণালী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি অস্থায়ী চুক্তির প্রেক্ষিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ওমান উপসাগর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর, তেহরানও জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে অবরোধ প্রত্যাহার হলেও বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই লাইফলাইনে এখনো স্বাভাবিক ছন্দে ফেরেনি জাহাজ চলাচল।
প্রথম দিনে কতগুলো জাহাজ পার হলো?
তথ্য ও বিশ্লেষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, হরমুজ খুলে দেওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় এই পথ পাড়ি দিয়েছে মাত্র ২৫টি জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাঙ্কার। এর মধ্যে তিনটি সৌদি আরবের জাহাজ রয়েছে।
অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে এই ব্যস্ততম রুটটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৩০টি জাহাজ যাতায়াত করত। বর্তমানের এই নগণ্য সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনো অনেকটা পথ বাকি।
কেন এখনো সতর্ক জাহাজ মালিকরা?
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবরোধ উঠলেও মূলত দুটি বড় কারণে জাহাজ মালিকরা হরমুজ দিয়ে যাতায়াত করতে এখনো দ্বিধাবোধ করছেন:
-
সমুদ্র মাইন আতঙ্ক: পেন্টাগনের ধারণা অনুযায়ী, প্রণালীর তলদেশে এখনো কয়েক ডজন মাইন সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি মাইনে প্রায় এক কেজি করে বিস্ফোরক রয়েছে। মাইনগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় জাহাজ মালিকরা নিজেদের সুরক্ষার বিষয়ে চরম উদ্বিগ্ন।
-
টোল নিয়ে ধোঁয়াশা: জাহাজ চলাচলের জন্য টোল সংক্রান্ত জটিলতা এখনো কাটেনি। একদিকে ইরান টোল আদায়ের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এবং আলোচনা দলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। এই আইনি অনিশ্চয়তা মালিকদের ঝুঁকি নিতে বাধা দিচ্ছে।
কেন বিশ্বজুড়ে এই প্রণালী নিয়ে এত আতঙ্ক?
পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এই হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই প্রবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া মানে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফেরার ইঙ্গিত, কিন্তু মাইন ও টোল জটিলতা দূর না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য শুরু হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।