হোটেল ‘নিম্নমানের’, মেলেনি বোনাস: চরম বিশৃঙ্খলায় সেনেগাল দল, বড় সংকটে বিশ্বকাপ অভিযান

একদিকে ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তাপ, অন্যদিকে মাঠের বাইরের ঘটনাপ্রবাহে টালমাটাল সেনেগাল ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই আফ্রিকার এই শক্তিশালী দেশটির ক্যাম্পে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। খেলোয়াড়দের বকেয়া বোনাস থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্টের অদূরদর্শিতা—সব মিলিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার আগেই এক গভীর সংকটে পড়েছে সাদিও মানে-কালিদু কুলিবালিদের দল।
মাঠের বাইরে ‘গোল’ খেল সেনেগাল বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশ নেওয়া একটি দেশের জাতীয় দলের যে ধরনের পেশাদারিত্ব ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, সেনেগাল শিবিরের চিত্রটি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। রিপোর্ট অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং লজিস্টিক সাপোর্টে গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে অসন্তোষের প্রধান কারণ হলো তাদের প্রাপ্য পারফরম্যান্স বোনাস এখনো পরিশোধ করা হয়নি। আর্থিক পাওনা নিয়ে খেলোয়াড়দের এই ক্ষোভ দলের ঐক্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।
কোচ বিনা বেতনেই! সংকটের মাত্রা এতটাই প্রকট যে, দলের প্রধান কোচ পাপে থিয়াওয়ের পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। জানা গেছে, পাপে থিয়াও গত পাঁচ মাস ধরে কোনো বেতন পাননি, এমনকি বর্তমানে তাঁর কোনো বৈধ চুক্তিও নেই। জাতীয় দলের প্রধান কোচের এমন অনিশ্চিত অবস্থান কোচিং স্টাফ ও ফুটবলারদের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, যা মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
নিম্নমানের হোটেল ও খাবারের সংকট শুধু আর্থিক সমস্যাই নয়, সেনেগাল দলের আবাসন ব্যবস্থা নিয়েও খেলোয়াড়রা ব্যাপক ক্ষুব্ধ। টিম হোটেলের মান নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি খাবার নিয়েও তৈরি হয়েছে জটিলতা। দলের নিজস্ব শেফের অভাবের কারণে খেলোয়াড়দের পুষ্টি ও খাবারের নিয়মিত রুটিন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ফুটবলারকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাবার ব্যবস্থা করতে দেখা গেছে, যা একটি পেশাদার দলের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
টুর্নামেন্ট কি ঝুঁকির মুখে? ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ের পর সেনেগাল এখন তাদের পরবর্তী ম্যাচের অপেক্ষায়। কিন্তু মাঠের বাইরের এই অগোছালো পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যদি সেনেগাল ফেডারেশন দ্রুত এই অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান করতে না পারে, তবে এবারের আসরে ‘লায়নস অফ তেরাঙা’দের বিশ্বকাপ অভিযান অকালেই শেষ হয়ে যেতে পারে।