রাজ্যের কলেজগুলিতে এবার ‘শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’! জেনেনিন কী কী হবে?

ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে উদ্যোগী হলো রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি কলেজগুলিতে আগামী ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী থাকছে কর্মসূচি?
উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই পক্ষকালব্যাপী সময়সীমার মধ্যে কলেজগুলিতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও অবদানের ওপর প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা।
বিশেষ কুইজ এবং বিতর্ক সভা।
তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক কর্মজীবনের ওপর সচেতনতামূলক আলোচনা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আয়োজিত প্রতিটি কর্মসূচির যথাযথ নথিপত্র এবং জিও-ট্যাগযুক্ত (Geo-tagged) ছবি সংগ্রহ করে রাখতে হবে, যা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা দপ্তরে জমা দিতে হতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের সরকারি নির্দেশিকার পরেই এই নতুন কর্মসূচিকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাংলার আইকন হিসেবে নতুন করে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করার এটি একটি বড় কৌশল।
রাজ্য সহায়তাপ্রাপ্ত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক অধ্যাপকের কথায়, “দীর্ঘদিন ধরে অনেক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মূলধারার আলোচনা থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। বর্তমান সরকার তাঁকে বাংলার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার জন্য এই প্রয়াস নিচ্ছে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের ঐতিহাসিক দিবস পালনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব এবং এরপর শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মরণে এই পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি—সব মিলিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।