পাহাড়ে চরম দুর্যোগ! ধসে বন্ধ NH10, বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি জনপদ, জারি ‘রেড অ্যালার্ট’

লাগাতার ভারী বর্ষণে কার্যত বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। শুক্রবার সকাল থেকেই পাহাড় ও সমতলে দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, অতি ভারী বৃষ্টির জেরে কার্শিয়ং ও মিরিক এলাকায় ব্যাপক ধস নেমেছে। এর ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ভেঙে পড়ল দুধিয়া সেতু
বালাসন নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের বিপর্যয়ের পর এই বিকল্প সেতুটিই মিরিক ও সুখিয়াপোখরির বাসিন্দাদের যাতায়াতের প্রধান ভরসা ছিল। সেতুটি ভেঙে পড়ায় মিরিক ও শিলিগুড়ির মধ্যে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। আপাতত মিরিকের বাসিন্দাদের ঘুম হয়ে ঘুরপথে শিলিগুড়ি যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অচল NH10 ও পাহাড়ের যোগাযোগ
শুধু দুধিয়া সেতু নয়, বৃহস্পতিবার থেকেই ধসের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ NH10 সড়ক। মহানদীর কাছে খারসাং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৩ লেনের সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে শিলিগুড়ি-গ্যাংটক সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাতায়াতও বর্তমানে ব্যাহত।
পরিসংখ্যান ও সতর্কতা:
বৃষ্টির মাত্রা: গত ২৪ ঘণ্টায় কার্শিয়ংয়ে ১১৩ মিমি এবং মিরিকে ৬৩ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা: দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও কোচবিহার জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রশাসনের বার্তা: পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নদীর স্রোত কমলে দ্রুত বিকল্প সেতু মেরামতির কাজ শুরু হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাহাড়ের এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি শহরের একাধিক নিচু এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো প্রয়োজনে স্থানীয় কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।