বাচ্চার দুষ্টুমি নাকি বড় বিপদ? হ্রদে আইফোন ফেলে দিয়ে আলোচনায় এই শিশু! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

বাচ্চাদের ছোটখাটো দুষ্টুমি অনেক সময় বাবা-মায়ের জন্য চরম বিড়ম্বনা আর বড়সড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই এক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে ভুরু কুঁচকেছেন নেটিজেনরা। ভাইরাল এই ভিডিওতে দেখা গেছে, নৌকাভ্রমণের আনন্দ মুহূর্তে এক ব্যয়বহুল ঘটনায় পরিণত হয়েছে, যখন মায়ের সাধের আইফোনটি শিশুটি অনায়াসেই হ্রদের গভীরে ছুড়ে ফেলে দিল। ভিডিওটি ১০ লক্ষেরও বেশিবার দেখা হয়েছে এবং তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।
ভিডিওর দৃশ্যটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক অথচ কৌতূহলী। হ্রদের মাঝখানে একটি ছোট নৌকায় মা ও শিশুকে দেখা যাচ্ছে। মা একটি লাইফ জ্যাকেট পরে থাকলেও, কোল ঘেঁষে বসে থাকা শিশুটির পরনে কোনো সুরক্ষা সরঞ্জাম ছিল না। হ্রদের রূপালী জলের দিকে তাকিয়ে শিশুটি মায়ের আইফোনটির জন্য হাত বাড়ায়। শিশুটির জেদের কাছে হার মেনে মা তাকে ফোনটি হাতে দেন। কিন্তু ফোনটি হাতে পাওয়া মাত্রই শিশুটি যা করল, তা কল্পনার অতীত। মুহূর্তের মধ্যে সেটি সোজা জলের গভীরে ছুড়ে দেয় সে। মা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ফোনটি হারিয়ে যায় হ্রদের নীল জলে।
ভিডিওটি শেয়ার করেছেন তেহসি নামের এক ব্যবহারকারী। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি মজার ছলে লিখেছেন, “শিশুটা আমাকে ফোন করে বলেছে, আমরা হ্রদের মাঝখানে ছিলাম। মা লাইফ জ্যাকেট পরে নিজেকে সুরক্ষিত রেখেছিলেন, কিন্তু আমার সুরক্ষার কথা ভাবেননি। তাই আমি তার প্রিয় আইফোনটি জলে ছুড়ে ফেলে দিয়েছি!” শিশুটির এই ‘প্রতিশোধমূলক’ কর্মকাণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় হাসির খোরাক জোগালেও, ভিডিওটি দেখার পর নেটিজেনরা এক গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির দিকে আঙুল তুলেছেন।
Kid throws his mom’s iPhone into the lake during a boat ride 😂 pic.twitter.com/Bg22E4J2Vs
— Tehxi (@yajnshri) June 18, 2026
অধিকাংশ নেটিজেনই প্রশ্ন তুলেছেন শিশুটির লাইফ জ্যাকেট নিয়ে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ পুষ্পা কিনি কঠোর ভাষায় জানিয়েছেন, “নৌকায় থাকা অবস্থায় শিশুটির লাইফ জ্যাকেট না পরাটা একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।” অনেকে এই ঘটনাকে বাবা-মায়ের অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একদিকে যেমন শিশুটির এই কাণ্ডে হাসির রোল উঠেছে, অন্যদিকে অনেকেই শিশুটির নিরাপত্তার অভাব নিয়ে সরব হয়েছেন। বাবা-মায়ের ভুলে হ্রদের মাঝে এমন ঘটনা যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হতে পারত, তা নিয়ে নেটদুনিয়ায় চলছে তুমুল বিতর্ক। ঘটনাটি যেমন শিক্ষা দেয়, তেমনই মনে করিয়ে দেয় যে জলের ধারে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।