হঠাৎ কালীঘাটে মমতার বোনের বাড়িতে সিআইডি, জেনেনিন আসলে কী কেস?

বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডের তদন্তে বৃহস্পতিবার ফের নতুন মোড়। তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডি-র একটি দল পৌঁছে গেল কালীঘাটে  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোনের বাড়িতে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে ফের শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও সিআইডি-র পক্ষ থেকে এখনও সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

কী এই সই জাল কাণ্ড? বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা পড়া একটি রেজোলিউশন থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, ওই রেজোলিউশনে অনেক বিধায়কের স্বাক্ষর তাঁদের অজান্তে বা জাল করে বসানো হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্ত শুরু হয়, যা বর্তমানে রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: সিআইডি সূত্রে খবর, এই মামলার তদন্তে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না তদন্তকারী সংস্থা।

  • জেরার মুখে হেভিওয়েটরা: এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্রের মতো একাধিক নেতাকে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

  • বয়ানে অসঙ্গতি: একাধিক নেতাকে জেরা করে সিআইডি তদন্তকারীরা দেখেছেন যে, তাঁদের বয়ানের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি রয়েছে। এই অসঙ্গতির জট খুলতেই তদন্তকারী আধিকারিকরা মরিয়া হয়ে নতুন করে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

  • তল্লাশির ধারা অব্যাহত: শুধু জেরা নয়, এই মামলার গভীরে পৌঁছাতে একাধিকবার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছে সিআইডি। বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বোনের বাড়িতে এই হানা সেই তদন্তেরই অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মামলার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছিল। সেই সংক্রান্ত রেজোলিউশনের স্বাক্ষর নিয়েই জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতির জটিলতা তখন চরমে পৌঁছায়, যখন ৫৮ জন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দাবি করেন। সেই থেকেই এই সই জাল কাণ্ড নিয়ে তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর মোড় আসতে শুরু করেছে।

এখন দেখার, এই তদন্তের শেষে সিআইডি ঠিক কী রিপোর্ট পেশ করে এবং এই জালিয়াতির মূল চক্রী কারা, তা নিয়ে জল কতদূর গড়ায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *