“অভিষেকের নির্দেশে আমাকে সরানো হয়েছিল”-কার দিকে ঝুঁকছেন প্রদীপ সরকার?

সাংগঠনিক রদবদলের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার একদিনের মধ্যেই পদ প্রত্যাখ্যান করে দল ছাড়লেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। বুধবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠানোর পাশাপাশি দলের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
মমতা-অভিষেকের ছবি নামিয়ে দিলেন প্রদীপ: দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের পরেই খড়্গপুরে নিজের কার্যালয় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে ফেলেছেন প্রদীপ। এই প্রতীকী পদক্ষেপই রাজনৈতিক মহলে জল্পনার পারদ তুঙ্গে তুলেছে।
কী অভিযোগ প্রাক্তন বিধায়কের? সাংবাদিক বৈঠকে প্রদীপ সরকার দাবি করেন, ২০২২ সালে খড়্গপুর পুরসভার পুরপ্রধান পদ থেকে তাঁকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রদীপের অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। আমাকে আজও জানানো হয়নি কেন পদ থেকে সরানো হয়েছিল।” দলের একাংশের অন্তর্ঘাতই ২০২১ ও পরবর্তী নির্বাচনে দলের পরাজয়ের মূল কারণ বলে তিনি দাবি করেন।
জুন মালিয়াকে নিয়ে নতুন রহস্য: দলের নেতৃত্বকে আক্রমণ করলেও মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়াকে নিজের ‘নেত্রী’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন প্রদীপ। তিনি বলেন, “জুন মালিয়ার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাঁকেই আমি নেত্রী মানি।” উল্লেখ্য, জুন মালিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে এমনিতেই গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যেই প্রদীপের এই মন্তব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শুভেন্দু-দিলীপের প্রশংসা: সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো, তৃণমূল ছাড়ার পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং খড়্গপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রদীপ। যদিও তিনি এখনই অন্য কোনো দলে যোগ দেওয়ার কথা স্পষ্ট করেননি। কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা ‘সময়ই বলবে’ বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেলা তৃণমূলের বর্তমান সভাপতি অজিত মাইতি এই ঘটনায় আপাতত নীরবতা পালন করলেও, খড়্গপুরের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই ঘটনা যে বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।