“মুসলিম পাড়ায় তৃণমূলের মাত্র ৫ ভোট!”-অবিশ্বাস্য ফলে তোলপাড়, হাইকোর্টে তাপস

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। ভবানীপুরের পর এবার রাজারহাট-নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনা নিয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়। মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে হারের নেপথ্যে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু বুথের ‘অস্বাভাবিক’ ফলাফল—এমনটাই দাবি শাসকদলের।
কী অভিযোগ তৃণমূলের? তৃণমূল প্রার্থী তাপস চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজারহাট-নিউ টাউনের ১৬৪ নম্বর বুথে ফলাফল প্রকাশের সময় কারচুপি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘মুসলমান পাড়া’ হিসেবে পরিচিত এই বুথে তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৫টি ভোট। তাপসের দাবি, এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না। তাঁর কথায়, পাশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলোতে যেখানে তৃণমূল বা বামেরা বড় ব্যবধানে এগিয়েছে, সেখানে এই নির্দিষ্ট বুথে বিজেপির ৯৭ শতাংশ ভোট পাওয়া অসম্ভব।
গণনায় কারচুপির দাবি: তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, ভোট গণনার শুরু থেকে তাপস চট্টোপাধ্যায় এগিয়ে থাকলেও, শেষ পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট বুথের ফলাফল ঘোষণার পরই সমীকরণ উল্টে যায়। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, ওই বুথের ভোট গণনার সময় বিশেষ তাড়াহুড়ো করা হয়েছিল এবং প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের গরমিল রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বনাম বাস্তব: কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬৪ নম্বর বুথে মোট ৬৫৬টি ভোটের মধ্যে ৬৩৭টি ভোট পেয়েছে বিজেপি। অথচ, মাত্র পাশের ১৬৫ নম্বর বুথে, যেখানে মুসলিম ভোটারের হার প্রায় ৯১ শতাংশ, সেখানে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ৩২টি ভোট। এই দুই সংলগ্ন বুথের ফলাফলের আকাশ-পাতাল ফারাক নিয়েই মূলত প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবির।
হাইকোর্টে কী চাইলেন তাপস চট্টোপাধ্যায়? নির্বাচন পিটিশনে তাপস চট্টোপাধ্যায় আদালতকে জানিয়েছেন:
-
সংশ্লিষ্ট ১৬৪ নম্বর বুথের ভোট পুনরায় গণনা করতে হবে।
-
ভোট সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও অডিও-ভিজুয়াল রেকর্ড আদালতের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
-
পুরো গণনা প্রক্রিয়াটি বিচারবিভাগীয় পর্যবেক্ষণে খতিয়ে দেখতে হবে।
এই মামলাটি বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালত এখন এই সংক্রান্ত কী নির্দেশ দেয় এবং এই আইনি লড়াই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।