তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে রচনা? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মুখ খুললেন সাংসদ

তৃণমূল ছেড়ে কি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণে পা রাখছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? গত রবিবার তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন দল এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগদানের হিড়িকের সময় অনুপস্থিত থাকলেও, দিল্লি ফিরেই জল্পনার পারদ চড়ালেন হুগলির সাংসদ। বুধবার দুপুরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এর আগে নিশিকান্ত দুবে ও ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনেও দেখা যায় তাঁকে।

কী বললেন রচনা? স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানান, এনসিপিআই-এর নথিপত্রে সই করতেই তিনি দিল্লিতে এসেছেন। দলবদল নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন প্রাক্তন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গে অত্যন্ত সংযত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।

রচনা বলেন, “আমরা কখনও দিদির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারি না। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা অটুট। দিদি ছিলেন দলের মুখ, আর তাঁর জন্যই আমরা ভোট পেয়েছিলাম। তাঁকে আমি সবসময় অত্যন্ত সম্মান করি।”

কেন এই ‘ভিন্নমত’? দিদির প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও, কেন তিনি দলের বাইরে গিয়ে ভাবছেন? তার ব্যাখ্যায় রচনা বলেন, “আমি ভোট পেয়েছি আমার কেন্দ্রের মানুষের জন্য কাজ করার উদ্দেশ্যে। আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি হলো, রাজ্য ও কেন্দ্রে একই সরকার থাকলে উন্নয়নের কাজ করা অনেক বেশি সহজ হয়। বিগত ১৫ বছরে আমরা সেই পরিস্থিতি দেখিনি।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য সরাসরি উন্নয়নের দোহাই দিয়ে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন শিবিরের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্বের ইঙ্গিতই বহন করছে। যদিও এনসিপিআই নামক দলটি নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয়, তবুও নিজস্ব প্রতীকে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি যে শুরু হয়ে গেছে, রচনার এই দিল্লি সফর তারই স্পষ্ট প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *