সাপের ছোবলে প্রাণ গেল ৭ বছরের শিশুর! রাগে, ক্ষোভে বিষধর গোখরাকে পিটিয়ে মারলেন শোকস্তব্ধ বাবা

সাত বছরের ফুটফুটে শিশু গগন বিহারী। সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে খেলাধুলায় মত্ত ছিল সে। কিন্তু এক মুহূর্তের অসতর্কতা এবং প্রকৃতির রুদ্ররূপ কেড়ে নিল তার প্রাণ। তেলেঙ্গানার মাহবুবাবাদ জেলায় বিষধর গোখরার ছোবলে মৃত্যু হলো শিশুটির। আর এই মর্মান্তিক ঘটনার পর শোক ও আক্রোশে উত্তাল হয়ে উঠল স্থানীয় এলাকা।

ঘটনার বিবরণ:
ঘটনাটি ঘটেছে মাহবুবাবাদের কুরাভি মণ্ডলের নেরাদা উপশহরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে খেলা করার সময় পাথরের দেওয়ালের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে একটি বিষধর গোখরা। আচমকাই সেটি গগনকে কামড়ে দেয়। শিশুর আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে সাপটিকে দেখতে পান। দ্রুত তাকে মাহবুবাবাদ আঞ্চলিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও বিষ দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ায় শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বাবার করুণ প্রতিশোধ:
সন্তানকে হারানোর শোকের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল আক্রোশ। বাড়ির সামনেই সাপটিকে দেখতে পেয়ে শোকাহত বাবা বানোটু মধু ধৈর্যের বাঁধ হারান। রাগে ও শোকে তিনি ধাওয়া করে ওই গোখরা সাপটিকে ধরে ফেলেন এবং পিটিয়ে মেরে ফেলেন। কিন্তু বিষধর সাপটির মৃত্যু হলেও, গগনের অকাল প্রস্থান পরিবারের জীবনে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।

বর্ষাকালে বিশেষ সতর্কতা:
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বিপদ এড়াতে কিছু জরুরি সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন:

পরিচ্ছন্নতা: বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড়, ইটের বা পাথরের স্তূপ এবং আবর্জনা জমতে দেবেন না।

আলো ব্যবহার: রাতে চলাচলের সময় বা অন্ধকারে টর্চলাইট ব্যবহার অবশ্যই করুন।

কুসংস্কার মুক্ত থাকুন: সাপে কাটলে ওঝা, ঝাড়ফুঁক বা লোকজ চিকিৎসায় সময় নষ্ট করবেন না। দেরি না করে অবিলম্বে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যান, যেখানে ‘অ্যান্টি-ভেনম’ বা সাপের বিষের প্রতিষেধক রয়েছে।

একটি অমূল্য প্রাণ ঝরে যাওয়ায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সমবেদনা জানানো হয়েছে।