বাজারের মন্দায় ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকা গায়েব! তবুও এই ৮৪টি স্টক বিনিয়োগকারীদের मालामाल করল কীভাবে?

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শেয়ার বাজার এক বড় ধরণের ঝড়ের সাক্ষী হয়েছে। বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FII) ইক্যুইটি বাজার থেকে রেকর্ড ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। বাজারের এই বড় পতনের সময় যেখানে বড় বড় লার্জ-ক্যাপ স্টকগুলি ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। বাজারের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ৮৪টি কোম্পানি এমন পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের অবাক করে দিয়েছে।

কেন এই পতন?
বিশ্বব্যাপী সুদের হারের অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে বড় অঙ্কের পুঁজি সরিয়ে নিয়েছিল। এটি ছিল ভারতীয় কর্পোরেট ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম বিক্রির ঘটনা। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে বাজার ভেঙে পড়ার কথা থাকলেও, ভারতীয় বাজারের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং খুচরা বিনিয়োগকারীদের অটল আস্থা সূচককে সুরক্ষা দিয়েছে।

৮৪টি ‘লুকানো দৈত্য’—সফলতার রহস্য
বাজারের বিশেষজ্ঞ ও ডেটা বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, যখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করছিলেন, তখন দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (DII) এবং খুচরা বিনিয়োগকারীরা কৌশলে নির্বাচিত কিছু মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ স্টকে বিনিয়োগ বাড়িয়েছিলেন। এই ৮৪টি স্টক কঠিন সময়েও ১০০% থেকে ৩০০% পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে।

কেন এই স্টকগুলো জিতল?

শক্তিশালী ভিত্তি: এই কোম্পানিগুলির আয়ের গ্রাফ ছিল ঊর্ধ্বমুখী এবং ঋণের বোঝা ছিল অত্যন্ত কম।

ভবিষ্যৎমুখী খাত: এই ৮৪টি স্টকের বেশিরভাগই প্রতিরক্ষা (Defence), পরিকাঠামো (Infrastructure), নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy), সেমিকন্ডাক্টর এবং ডেটা সেন্টার খাতের।

দেশীয় চাহিদা: সরকারি মূলধনী ব্যয় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগের ফলে এই সংস্থাগুলো লাভবান হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় শিক্ষা
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি মানেই বাজারের পতনের চূড়ান্ত সংকেত নয়। বাজারের এই তথাকথিত ‘অন্ধকার সময়েই’ আসল সুযোগ লুকিয়ে থাকে। শক্তিশালী ‘অর্ডার বুক’ এবং মজবুত বিজনেস মডেল থাকা মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ সংস্থাগুলো যেকোনো বৈশ্বিক ধাক্কা সামলে টিকে থাকতে পারে।

উপসংহার
৫.৫ লক্ষ কোটি টাকার বহির্গমন ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি সামষ্টিক ধাক্কা হলেও, এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে ভারতীয় অর্থনীতির ‘অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধি’ এখন কতটা স্বনির্ভর। বাজারের এই অস্থিরতা আবারও প্রমাণ করল যে, অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং সঠিক কোম্পানির ওপর দীর্ঘমেয়াদী আস্থাই বিনিয়োগকারীদের সম্পদ গড়ার মূল চাবিকাঠি।