মমতাকে ‘দিদি’ বলে অখিলেশের বার্তা, উল্টো সুর সপা নেতা কিরণময়ের! অস্বস্তিতে তৃণমূল?

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় এবং রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। কেবল রাজ্যেই নয়, সর্বভারতীয় বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্দরেও তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। এই আবহে সমাজবাদী পার্টির (সপা) শীর্ষ নেতা কিরণময় নন্দ-র সাম্প্রতিক মন্তব্য তৃণমূল ও সপার মধ্যকার ‘অস্বস্তিকর’ দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অখিলেশের সৌজন্য বনাম কিরণময়ের ঝাঁজ
কয়েক দিন আগেই কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব বার্তা দিয়েছিলেন, “মমতা দিদি হারেননি।” কিন্তু সেই রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা কিরণময় নন্দ রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “সবচেয়ে বড় ভুল হলো যখন বলা হয়, আমি হারিনি। হার স্বীকার করতে না পারাটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এক অদ্ভুত অস্বস্তি।”

‘মমতা দু’বারই হেরেছেন’
কিরণময় নন্দ সরাসরি তৃণমূল নেত্রীর পরাজয় নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “মমতা দু’বারই হেরেছেন।” নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল টেনে এনে তিনি দাবি করেন, এই রাজনৈতিক বিপর্যয় থেকে চোখ ফিরিয়ে রাখার কোনো অবকাশ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন জোটসঙ্গী দলের নেতার মুখ থেকে এহেন সরাসরি আক্রমণ প্রমাণ করে যে, সর্বভারতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রাসঙ্গিকতা এখন ক্রমশ তলানিতে এসে ঠেকেছে।

‘সোনার পাথরবাটি’ জোট?
জাতীয় স্তরের বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং তাতে তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে চরম হতাশা ব্যক্ত করেছেন বাম আমলের প্রাক্তন এই মৎস্যমন্ত্রী। অতীতে অখিলেশ যাদব, অরবিন্দ কেজরীওয়াল বা উদ্ধব ঠাকরেদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই জোটকে ‘সোনার পাথরবাটি’-র সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিরণময় নন্দের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস অতীতে বিরোধী দল ভাঙানোর খেলায় মেতেছিল, আর আজ তারাই জোটের কথা বলছে।

সপার কৌশল কী?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সমাজবাদী পার্টির এই ‘দ্বিমুখী’ অবস্থান আসলে একটি সুগভীর কৌশল। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে জমি শক্ত করতে সপা এখন তৃণমূলের মতো ক্ষমতাচ্যুত দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতেই আগ্রহী। অখিলেশ যাদব প্রকাশ্যে রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখলেও, কিরণময় নন্দকে দিয়ে এই কড়া বার্তা দেওয়ানোর অর্থ—জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের ওপর থেকে ধীরে ধীরে সমর্থন সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের এই ফলাফল কেবল বাংলাতেই নয়, দিল্লির দরবারেও তৃণমূলের বন্ধু-বৃত্তকে প্রবলভাবে সংকুচিত করে দিচ্ছে।