রাম মন্দিরের দান নিয়ে কি বড় দুর্নীতি? SIT তদন্তে কী উঠে এল? জানুন বিস্তারিত

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ এবং মূল্যবান সামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই ইস্যুতে ট্রাস্টের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের নীরবতাকে ‘রহস্যজনক’ বলে কটাক্ষ করেছেন। এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে।
অখিলেশের বিস্ফোরক অভিযোগ
অখিলেশ যাদবের অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দির চত্বরের দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ এবং ১,২৫০টি বহুমূল্য ‘শ্রীরাম শিলা’ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছে। তাঁর টুইট করা একটি ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, রাম মন্দির আন্দোলনের সময় ভারত ও বিদেশ থেকে সংগৃহীত সোনা, রুপো ও রত্নখচিত এই পাথরগুলোর কোনো হিসাব নেই। অখিলেশ দাবি তুলেছেন, এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কেওয়াইসি (KYC) যাচাই করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
SIT-এর গঠন ও তদন্ত
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার একটি ৩ সদস্যের এসআইটি গঠন করেছে। এই দলে রয়েছেন:
আইএএস অফিসার বিজয় বিশ্বাস পান্ত।
আইপিএস অফিসার এস. কিরণ।
রাজ্যের অর্থ দপ্তরের বিশেষ সচিব নীল রতন।
এসআইটি বর্তমানে রাম মন্দির চত্বরে পৌঁছে প্রমাণ সংগ্রহ এবং জিজ্ঞাসাবাদের কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে মন্দির ট্রাস্টের ৪০ জনেরও বেশি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মন্দির ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ অডিট প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাই এই ঘটনাকে ‘সংগঠিত ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, রামের নামে ব্যবসা করা মানুষরাই এই চুরির সঙ্গে জড়িত এবং এ বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতির নজরদারিতে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, মন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই প্রাথমিকভাবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন যে, অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো বড় অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি। তবে ট্রাস্টের তরফ থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাম মন্দিরের এই বিতর্কটি কেবল রাজনৈতিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি আদালতের দরজায় জনস্বার্থ মামলা হিসেবেও পৌঁছেছে, যেখানে অনেকে এই পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি ফরেনসিক অডিটের দাবি জানিয়েছেন।