তৃণমূলের অন্দরে চরম নাটক! স্পিকারের দরবারে বিদ্রোহী ও অনুগত শিবির, কার দখলে সংসদীয় দল?

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার পৌঁছে গেল স্পিকারের দরবারে। রবিবার রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠনের আবেদন ঘিরে তৈরি হলো চূড়ান্ত নাটকীয় পরিস্থিতি। একদিকে যখন বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং তাঁর অনুগামীরা বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠক করছিলেন, তখনই তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা পদক্ষেপে সরগরম হয়ে ওঠে স্পিকারের সরকারি বাসভবন।
স্পিকারের দ্বারস্থ তৃণমূল নেতৃত্ব
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে রবিবারই স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেন সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ও কীর্তি আজাদ। তাঁরা স্পিকারের হাতে অভিষেকের একটি চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে স্পষ্টভাবে দাবি জানানো হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস একটি একক ও অবিভাজ্য রাজনৈতিক দল। লোকসভায় দলের সংসদীয় শাখা মূল দলেরই অংশ। ফলে অন্য কোনও গোষ্ঠী যদি আলাদা স্বীকৃতির দাবি জানায়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শোনা একান্ত জরুরি।
অভিষেকের ই-মেল ও ইডি জেরা
সূত্রের খবর, স্পিকারের অফিস থেকেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৫ জুন দুপুরে তাঁকে একটি ই-মেল পাঠিয়ে বিকেলে ৪টের মধ্যে সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় অভিষেক ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ছিলেন, ফলে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে কীর্তি আজাদ স্পিকারের দফতরে গিয়ে জানান, অত কম সময়ের নোটিশে অভিষেকের পক্ষে দিল্লি পৌঁছানো সম্ভব নয়। তিনি পরবর্তী কোনো সুবিধাজনক সময়ে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বিদ্রোহীদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ জল্পনা
অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই তাদের অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তারা এনসিপিআই-এ (NCPI) যোগ দেওয়া এবং এনডিএ-কে (NDA) সমর্থন করার বিষয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতির পর স্পিকারের দফতর জানিয়েছে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পক্ষকেই আলাদা করে ডেকে তাদের বক্তব্য শোনা হবে। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা, দলের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং বিরোধী রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন। গোটা বিষয়টি এখন স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।