২৭ শট রুখে বিশ্বজয়! স্পেনকে আটকে রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়া তারকা এই গোলরক্ষক

ফুটবল বিশ্বের ইতিহাসে অনেক অঘটন ঘটে, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের স্পেন বনাম কেপ ভার্দে ম্যাচটি মনে থাকবে অনেক দিন। স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে গোলশূন্য ড্র-এ আটকে দিয়ে শিরোনামে উঠে এসেছেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা (Vozinha)। তাঁর অসামান্য পারফরম্যান্স কেবল মাঠের লড়াইকেই জয় করেনি, বরং রাতারাতি জয় করে নিয়েছে কোটি মানুষের হৃদয়।

স্পেনের ২৭ শট রুখে ‘দুর্ভেদ্য প্রাচীর’
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের বিরুদ্ধে বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল স্প্যানিশদের। ম্যাচে তারা গোলপোস্ট লক্ষ্য করে টানা ২৭টি শট নিয়েছিল, মাঠে নামানো হয়েছিল লামিন ইয়ামালকেও। কিন্তু ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহার দৃঢ়তার সামনে সব চেষ্টাই বিফলে যায়। ম্যাচে মোট ৭টি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি শুধু ম্যাচটিই ড্র করাননি, বরং বিশ্বকাপে অভিষেকে ‘ক্লিন শিট’ রাখা সবথেকে বয়স্ক গোলরক্ষক হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন।

আবেগঘন মুহূর্ত
ম্যাচ শেষ হতেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত স্প্যানিশ সমর্থকেরাও ভোজিনহার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠেন। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজতেই গোলপোস্টের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদতে দেখা যায় এই লড়াকু গোলরক্ষককে। সতীর্থরা তাঁকে ঘিরে ধরলে এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

৫০ হাজার থেকে ৫৮ লক্ষ ফলোয়ার!
এই ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে ভোজিনহার অনুগামীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ হাজার। কিন্তু ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগেই সেই সংখ্যা ১৫ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮ লক্ষে! অবিশ্বাস্যভাবে হু হু করে বাড়ছে তাঁর জনপ্রিয়তা।

এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প
ভোজিনহার এই উত্থান সহজ ছিল না। ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে পা রাখা এই গোলরক্ষক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খেলেছেন অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস এবং পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে। ২০১২ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হলেও অনেকবারই অবসরের কথা ভেবেছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন তাঁকে থামতে দেয়নি।

আজ তিনি শুধু একজন গোলরক্ষক নন, বরং লড়াই করে টিকে থাকার এক জীবন্ত উদাহরণ। ফুটবল যে স্বপ্নের কোনো বয়স মানে না, ভোজিনহার এই অসামান্য লড়াই তারই প্রমাণ।