NCPI দলটা বাংলাদেশে তৈরি? বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের দল বদল নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

দেশের রাজনীতিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এই দলে যোগদানের পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। এরই মধ্যে এই দলকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করে চাঞ্চল্য ছড়ালেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
‘অনুপ্রবেশকারী’ দল এনসিপিআই! সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী সরাসরি অভিযোগ করেন, এনসিপিআই-এর জন্ম ভারতে নয়, বরং বাংলাদেশে। অধীরের কথায়, “শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় এই দলের জন্ম। অনুপ্রবেশ করে আজ এই পার্টি দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছে এবং এনডিএ-কে সমর্থন করছে।”
কংগ্রেস নেতার আরও চাঞ্চল্যকর দাবি, তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে নতুন এই দলটি রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। অধীর বলেন, “শুধু মানুষ নয়, এখন পার্টিও অনুপ্রবেশ করছে ভারতে। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বলব, এই বিষয়ে নজর দিতে।”
নাম বদলের নিদান অধীরের দলটির নাম নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে অধীর রঞ্জন চৌধুরী পরামর্শ দিয়েছেন, “ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির নাম বদলে ‘ন্যাশনাল চিটিজেন পার্টি’ রাখা উচিত। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে রহস্যের জন্ম দিয়েছে।”
কী এই এনসিপিআই? রাজনীতির অন্দরমহলে খবর, এনসিপিআই-এর নেপথ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সংযোগ থাকতে পারে। তবে অধীরের দাবি, দলটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তৈরি।
-
প্রতিষ্ঠা ও ইতিহাস: দলটি ২০২০ সালে গঠিত হলেও ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয়।
-
ভিত্তি: প্রথমবার ত্রিপুরায় নির্বাচনে লড়েছিল এই দলটি।
-
বর্তমান পরিস্থিতি: কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শর্মিলা সরকার ও জুন মালিয়ার মতো তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যোগ দেওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির রাজনীতিতে এখন এই দলটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
এনসিপিআই-এর পোস্টারে ‘দলবদলু মুখ চাই না’ স্লোগান থাকলেও, দলবদলের মাধ্যমেই তারা শিরোনামে। এমতাবস্থায় অধীর রঞ্জনের এই বিস্ফোরক মন্তব্য দলটিকে আইনি বা রাজনৈতিক কোনো নতুন সংকটে ফেলবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।