ত্রিকোণ প্রেমের বলি ইন্দ্রাবতী! ছেঁড়া রেলের টিকিটই ফাঁস করল স্বামীর নৃশংস খুনের ছক!

নিখুঁত পরিকল্পনায় স্ত্রীকে খুন করে খালে ফেলে দিয়েছিল স্বামী। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। মাত্র ১০ দিনের মাথায় একটি ছেঁড়া রেলের টিকিট এবং ৫০০ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ঘেঁটে এই চাঞ্চল্যকর খুনের কিনারা করল মধ্যপ্রদেশের ভিন্দ পুলিশ। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বামী-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
গত ৫ জুন মেহগাঁও থানা এলাকার পিপরাউলি গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মহিলার মুখমণ্ডল এতটাই বিকৃত ছিল যে, প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ছেঁড়া রেলের টিকিট তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তদন্ত ও রহস্য উদঘাটন:
পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, টিকিটটি মথুরা থেকে গোয়ালিয়রের। এই সূত্র ধরে পুলিশ মথুরা স্টেশনের আশেপাশের প্রায় ৫০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তল্লাশি শুরু করে। ফুটেজে মহিলার পরনে থাকা শাড়ি এবং তার সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসে খুনের নেপথ্যের অন্ধকার কাহিনি।
খুনের নেপথ্যের ‘ত্রিকোণ প্রেম’:
ধৃত মূল অভিযুক্ত নারায়ণ বাঘেল এবং তার বন্ধু কুন্দন বাথামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, বছর তিনেক আগে সুরাটে ইন্দ্রাবতী নামে এক মহিলার সঙ্গে নারায়ণের পরিচয় হয় এবং তারা মন্দিরে বিয়েও করেন। এদিকে, নারায়ণের জীবনে আগে থেকেই সঙ্গীতা নামে এক প্রেমিকা ছিল। ইন্দ্রাবতী তার দাম্পত্য অধিকার দাবি করায় এবং সঙ্গীতা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়ায় নারায়ণ চরম চাপে পড়ে। এই ত্রিকোণ প্রেমের দ্বন্দ্ব মেটাতেই সে বন্ধু কুন্দনের সঙ্গে মিলে ইন্দ্রাবতীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড:
পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারায়ণ ইন্দ্রাবতীকে প্রলোভন দেখিয়ে মথুরা ও আগ্রা হয়ে সোনি স্টেশনে নিয়ে আসে। সেখান থেকে নির্জন রাস্তায় নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় তাকে। পরিচয় গোপন করতে কুন্দন বেলচা দিয়ে ইন্দ্রাবতীর মুখে একাধিকবার আঘাত করে যাতে তাকে চেনা না যায়। এরপর লাশ খালে ফেলে তারা এলাকা ছাড়ে।
মেহগাঁওয়ের এসডিওপি সঞ্জয় কোচ্ছার জানিয়েছেন, পুলিশি তৎপরতায় খুব দ্রুত এই জটিল রহস্যের সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ধৃত তিন অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।