সবুজ বিপ্লবের পথে ভারতীয় রেল! ‘গ্রিনকো গোল্ড’ খেতাবে ভূষিত ভাটভা ইলেকট্রিক লোকো শেড

ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল পশ্চিম রেলওয়ের আহমেদাবাদ ডিভিশন। পরিবেশবান্ধব কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (CII) কর্তৃক ‘গ্রিনকো গোল্ড রেটিং’ (GreenCo Gold Rating) অর্জন করল ভাটভা ইলেকট্রিক লোকো শেড। পশ্চিম রেলওয়ের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো শেড এমন সম্মান পেল।

ডিজেল থেকে বিদ্যুৎ—এক নতুন যাত্রা
পরিবেশ দূষণ কমাতে ভাটভা শেড এখন সম্পূর্ণরূপে বিদ্যুৎচালিত। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সাশ্রয়েও। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এই শেডটি ১৮.৮ মিলিয়ন লিটারেরও বেশি ডিজেল সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে। ডিজেলের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনায় কার্বন নিঃসরণও প্রায় ১০০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

সাশ্রয় ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন
বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শেডটিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে:

লাইট ও ফ্যান: পুরোনো লাইটের পরিবর্তে এলইডি (LED) এবং অধিক বিদ্যুৎ খরচকারী ফ্যানের বদলে ৫-স্টার বিএলডিসি (BLDC) ফ্যান বসানো হয়েছে।

স্মার্ট প্রযুক্তি: শক্তির অপচয় রোধে ‘অকুপেন্সি সেন্সর’ এবং ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল টাইমার’ ব্যবহার করা হয়েছে।

ডেলাইট হার্ভেস্টিং: শেডের অ্যাসেম্বলি বে-র ছাদে ‘লং-টিউব ডেলাইট হার্ভেস্টিং’ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দিনের আলোয় অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন কমেছে।

জল সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ
আহমেদাবাদ রেলওয়ে ডিভিশনের ম্যানেজার বেদ প্রকাশ জানান, ভাটভা শেড শুধুমাত্র বিদ্যুৎ নয়, জল সংরক্ষণেও অনন্য কাজ করেছে। বৃষ্টির জল সংগ্রহ ও ভূগর্ভস্থ জল পুনর্ভরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখানে বছরে প্রায় ২০.৫ লক্ষ লিটার জল সাশ্রয় হয়। এছাড়া শেড চত্বরে ৮০০-র বেশি গাছ রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘জিরো ওয়েস্ট’ নীতি
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ভাটভা শেড ‘জিরো ওয়েস্ট টু ল্যান্ডফিল’ নীতি গ্রহণ করেছে। বর্জ্য আলাদা করে তা পুনর্ব্যবহারকারী সংস্থাকে দেওয়ার ফলে পরিবেশ দূষণ কমার পাশাপাশি বছরে প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা
ভারতীয় রেল ২০৩০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো কার্বন নিঃসরণ’ বা শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে চলেছে। আহমেদাবাদ ডিভিশন জুড়ে ১,৮৬৩ কিলোওয়াট পিক (kWp) ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বছরে ২.৪২২ মিলিয়ন ইউনিট পরিচ্ছন্ন শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে। ভাটভা শেডের এই সাফল্য ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক বড় ধাপ হিসেবে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।