কোষ্ঠকাঠিন্যে জেরবার? কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন, জানালেন বিশেষজ্ঞ!

বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবনে কোষ্ঠকাঠিন্য এক অতি পরিচিত সমস্যা। আপাতদৃষ্টিতে এটি ছোটখাটো অস্বস্তি মনে হলেও, অবহেলার জেরে পেটে ব্যথা, পেট ফোলা বা অম্বলের মতো নানা গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে। গ্যাসট্রোএন্টেরোলজিস্ট সৌরভ শেঠির পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

কোষ্ঠকাঠিন্য আসলে কী?
চিকিৎসকদের মতে, মলত্যাগের অভ্যাস একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। তবে সাধারণত সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হলে তাকে কোষ্ঠকাঠিন্য হিসেবে ধরা হয়। মল শুকনো ও শক্ত হওয়া, মলত্যাগের সময় তীব্র কষ্ট বা ব্যথা হওয়া—এগুলোই এই সমস্যার প্রধান লক্ষণ।

সমস্যার মূলে কী?
কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রধান কারণগুলো হলো:

খাবারে ফাইবারের অভাব।

পর্যাপ্ত জল পান না করা।

শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের অভাব।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ।

অনিয়মিত রুটিন এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

যে খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে (ডায়েটে রাখুন):
মল নরম করতে এবং অন্ত্রের সচলতা বাড়াতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অপরিহার্য। ডায়েটে অবশ্যই রাখুন:

কিউই ও প্লাম (Plum): এগুলি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে।

ফ্ল্যাক্স সিড ও চিয়া সিড: এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।

মিষ্টি আলু ও পালং শাক: হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

ওটস ও নাশপাতি (Pears): অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে এগুলি অত্যন্ত কার্যকর।

কফি: অনেকের ক্ষেত্রে সকালে কফি পান মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করে।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন:
যেসকল খাবারে ফাইবারের পরিমাণ খুব কম এবং ফ্যাট বা চর্বি বেশি, সেগুলো হজম করা বেশ কঠিন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো:

চিজ ও চকোলেট।

তেলে ভাজা ও ফাস্ট ফুড।

অ্যালকোহল।

সাদা পাউরুটি বা ময়দার তৈরি খাবার।

শেষ কথা:
জীবনযাত্রায় সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলা এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করা কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ। তবে যদি দীর্ঘদিন এই সমস্যায় ভোগেন এবং ঘরোয়া উপায়ে সমাধান না মেলে, তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।