তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদান ঘিরে তীব্র বিতর্ক! ‘অগণতান্ত্রিক’ একীভূতকরণ, তোপ সম্পাদকের

তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই (NCPI)-এর সঙ্গে একীভূত হওয়ার ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি করলেও, এবার খোদ এনসিপিআই-এর অন্দরেই শুরু হয়েছে প্রবল মতবিরোধ। দলের সম্পাদক শান্তনু দে এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়াকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করে নির্বাচন কমিশন ও কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
সম্পাদকের বিস্ফোরক অভিযোগ
শান্তনু দে-র দাবি, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের দলে নেওয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো রকম আলোচনা বা পরামর্শ করার প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁর কথায়, “সংগঠনের অনুমোদন ছাড়া এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ত্রিপুরায় যারা মাঠ পর্যায়ে দলের জন্য পরিশ্রম করেছেন, তাদের সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।” তিনি শীঘ্রই সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের অন্দরের আরও অনেক তথ্য ফাঁস করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নেতৃত্বের পাল্টা দাবি
অন্যদিকে, এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেভালী কুন্ডু এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শান্তনু দে দলের প্রতিষ্ঠাতা বা সাধারণ সম্পাদক নন। ২০২৩ সালের পর তিনি দলের সদস্যপদও হারিয়েছেন।” শেভালী জানান, ব্যক্তিগত কারণে তিনি সভাপতির পদ থেকে আগেই পদত্যাগ করেছেন এবং নতুন সভাপতির বিষয়টি তিনিই ভালো জানেন। এই একীভূতকরণ বা তৃণমূল সাংসদদের যোগদানের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সূত্রের খবর, এই দলের প্রতিষ্ঠাতা উত্তিয়া কুন্ডু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
অখ্যাত দল কি এখন রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে?
তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে এনডিএ-কে সমর্থনের কথা জানানোর পর থেকেই এই স্বল্প পরিচিত এনসিপিআই দলটিকে নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দলটি ৩ বছর আগে নিবন্ধিত হলেও পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে সক্রিয় ছিল না। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মাত্র তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সফল হয়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের ভাঙন এবং এনসিপিআই-এর মতো ছোট একটি দলের ওপর ভর করে এনডিএ-তে যোগদানের এই কৌশল এক গভীর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের ‘একীভূত হওয়ার’ দাবি, অন্যদিকে দলের সম্পাদকের আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে এই নাটকীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।