জুনের বেতন কি ১ জুলাই ঢুকবে? সরকারি কর্মীদের মনে বাড়ছে উদ্বেগ, অর্থ দপ্তরের বড় আপডেট

জুন মাসের শেষলগ্নে এসে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের একাংশের মধ্যে বেতন পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। বিভিন্ন দপ্তরে বেতন সংক্রান্ত বিল প্রক্রিয়াকরণে দেরি হওয়া এবং বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ট্রেজারি অনুমোদনের কাজ মাসের শেষের দিকে পৌঁছানোয় এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, জুলাইয়ের ১ তারিখের মধ্যে বেতন ও পেনশন তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে তো?

কেন এই আশঙ্কা?
সরকারি কর্মীদের একাংশের দাবি, এবার বেশ কিছু দপ্তরে বেতন বিলের কাজ আগের তুলনায় কিছুটা ধীরগতিতে চলেছে। বিশেষ করে স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা, যারা সম্পূর্ণভাবে ট্রেজারি-নির্ভর বেতন ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের বিল আপলোড ও অনুমোদনের ক্ষেত্রেও কিছুটা দেরি হয়েছে। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ব্যাংক ও ট্রেজারির মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের কাজ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় তাঁদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা কাজ করছে।

কী বলছে অর্থ দপ্তর?
তবে প্রশাসনিক স্তরে এই জল্পনা চললেও, রাজ্য অর্থ দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সূত্রের বক্তব্য, মাসের শেষে এই ধরনের আশঙ্কা নতুন নয়, প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায়। দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে:

ট্রেজারি, পে-অ্যান্ড-অ্যাকাউন্টস অফিস এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বেতন ছাড়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

সরকারিভাবে বেতন বা পেনশন বিলম্বে হওয়ার কোনো ঘোষণা এখনও পর্যন্ত করা হয়নি।

কর্মচারী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া:
বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দ্রুত বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে মাসের শুরুটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা খরচ ও ঋণের কিস্তি মেটানোর মতো জরুরি দায়বদ্ধতাগুলো ১ তারিখের বেতনের ওপরই নির্ভরশীল। তাই এই সামান্য অনিশ্চয়তাও বহু পরিবারের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি কী?
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, আর্থিক বরাদ্দ এবং মাসশেষের ব্যাংকিং সময়সূচি অনুযায়ী কাজ চলছে। সাধারণত বেতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ পার করতে হয়, যা সব সময় মসৃণভাবে এগোলেও শেষ মুহূর্তে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। তবে বেতন বা পেনশন বিলম্বিত হওয়ার কোনো প্রশাসনিক নির্দেশ নেই।

এখন দেখার বিষয়, ১ জুলাইয়ের আগেই সব দপ্তরের কর্মীরা তাঁদের বেতন পান কি না। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সব পক্ষই।