ঘরে বসেই ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা! আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পাওয়ার মাপকাঠি কী? জেনে নিন

রাজ্যে চালু হওয়া ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্প ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। এই প্রকল্পের আওতায় এবার পরিবার প্রতি বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে মনে রাখতে হবে, এই সুবিধার পরিধি নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ।
কারা পাবেন এই সুবিধার সুযোগ? সবাই এই কার্ডের সুবিধা পাবেন না। মূলত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, আপনার কাছে নির্দিষ্ট ক্যাটেগরির ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলেই আপনি এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কার্ডের ক্যাটেগরিগুলি হলো:
-
অন্ন যোজনা (AAY)
-
বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (SPHH)
-
অগ্রাধিকার প্রাপ্ত (PHH)
যাদের ডিজিটাল রেশন কার্ড এই নির্দিষ্ট ক্যাটেগরির আওতায় পড়ে না, তারা আপাতত এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
আবেদন ও ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আবেদন করলেই যে সরাসরি কার্ড মিলবে, তা কিন্তু নয়। আপনার দেওয়া সমস্ত তথ্য সরকারি স্তরে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ক্রস-চেক বা যাচাই করা হবে। সমস্ত নথিপত্র যাচাইয়ের পরই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা আপনার নাম যোগ্য গ্রাহকদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন। তাই আবেদন করার সময় সঠিক তথ্য প্রদান করা অত্যন্ত জরুরি।
কী কী রোগের চিকিৎসা মিলবে? আয়ুষ্মান ভারত একটি অত্যন্ত বিস্তৃত প্রকল্প। এই কার্ডের মাধ্যমে জটিল রোগসহ একাধিক চিকিৎসা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে, যেমন:
-
ক্যানসার, কিডনির সমস্যা ও হার্টের অপারেশন।
-
নিউরোসার্জারি।
-
গর্ভাবস্থা ও শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিকিৎসা।
-
বিভিন্ন জরুরি অস্ত্রোপচার।
কোথায় পাবেন এই পরিষেবা? সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই কার্ডটি শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের সরকারি হাসপাতালেই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের বাইরের দেশের যেকোনো নামকরা সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালেও ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ, চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে গেলেও এই বিমার সুবিধা কার্যকর থাকবে।
৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ এই প্রকল্প রূপায়ণের জন্য কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক খাতে ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকার গঠনের পরেই এই প্রকল্প বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন ধাপে ধাপে কার্যকর করা হচ্ছে।
সম্পাদকের টিপস: আপনি যোগ্য প্রার্থী কি না তা যাচাই করতে এবং আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনার নিকটবর্তী সরকারি জনকল্যাণ কেন্দ্র বা পুরসভার হেল্প ডেস্কের সাথে যোগাযোগ করুন।