পুলিশের জালে ‘পুষ্পা’! নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান

দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান, যিনি এলাকায় ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত। নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পানিতঙ্কি বাজার এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং দার্জিলিং পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের নেপথ্যে:
গত বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটের পর নির্বাচন কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। সেই পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগেই নিজের প্রার্থপদ প্রত্যাহার করে নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন জাহাঙ্গীর। তারপর থেকেই তিনি এলাকাছাড়া ছিলেন। জানা গেছে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, তোলাবাজি, স্থানীয়দের ওপর অত্যাচার ও হিংসা ছড়ানোর মতো একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা কবচ প্রত্যাহার হওয়ার পরই পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি জোরদার করে।
কীভাবে ধরা পড়লেন ‘পুষ্পা’?
পুলিশি নজরদারি এড়াতে গোয়েন্দাদের চোখে ধুলো দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। গোয়েন্দা সূত্রে খবর:
ভোলবদল: নিজের পরিচিত গোঁফ কামিয়ে ভোল পাল্টে ফেলেছিলেন তিনি।
পালানোর ছক: দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। নেপাল সীমান্ত দিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ছক কষছিলেন তিনি।
হাঁকডাকের অবসান: গ্রেপ্তারের পর তাঁর সেই দাপট আর দেখা যায়নি। বর্তমানে তাঁকে কলকাতা নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি, গ্রেপ্তারের পর এলাকায় তল্লাশির সময় তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভও প্রকাশ্যে এসেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
জাহাঙ্গীর খানের এই গ্রেপ্তার নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ফলতায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এই নেতা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, এটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় এবং আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।
বর্তমানে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলা ও এসটিএফের তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন। তাঁর গ্রেপ্তারের পর এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।