পুর নিয়োগ দুর্নীতি! সুজিত বসুর জামিনের আর্জি খারিজ হাইকোর্টে, ১ জুলাই পর্যন্ত বাড়ল অস্বস্তি

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আপাতত জামিন অধরা প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার শুনানিতে সুজিত বসুর জামিনের তীব্র বিরোধিতা করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)। বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে চলা এই মামলায় ইডি-কে ২৯ জুনের মধ্যে তাদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানি ১ জুলাই।
আদালতে আইনজীবীদের লড়াই:
জামিন মামলার শুনানিতে প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী তথা প্রখ্যাত আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সুজিত বসুর গ্রেফতারির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি সওয়াল করেন, “২০২৩ সালে এই মামলা শুরু হলেও দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরে তদন্তকারী সংস্থা একবারের জন্যও তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকেনি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সর্বদা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। অথচ মে মাসে দুবার তলব করার পর দ্বিতীয়বার হাজিরার দিনই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।” সিংভির দাবি, এত দেরিতে গ্রেফতারি এই মামলার নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয়।
অন্যদিকে, ইডি’র আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতের কাছে সুজিত বসুর জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য পেশ করার জন্য সময় চেয়েছেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৯ জুনের মধ্যে ইডি-কে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট:
দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ১১ মে ইডি সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে। সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরা করার পরই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গ্রেফতারির আগে ১ মে ইডি দফতরে হাজিরা দিলেও সেদিন তিনি গ্রেফতারি এড়াতে পেরেছিলেন। তবে আদালত থেকে কোনো রক্ষাকবচ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারি এড়ানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু জেল হেফাজতেই রয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানি ১ জুলাই হওয়ায় তাঁর আইনি লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এই আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলে।