মমতা কি হারাচ্ছেন দলের নিয়ন্ত্রণ? ২০ সাংসদ ও ৬৫ বিধায়কের বিদ্রোহে কোণঠাসা তৃণমূল সুপ্রিমো।

২০২৬-এর ৪ মে-র পর থেকেই যেন তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর অভিশাপ নেমে এসেছে। শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে জেলাস্তরের নেতারা—জনরোষ এবং অভ্যন্তরীণ ভাঙনের জেরে বিপর্যস্ত রাজ্যের শাসকদল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে কুণাল ঘোষ—একে একে শীর্ষ নেতৃত্ব ‘ডিম হামলার’ শিকার হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এখন টিকে থাকার লড়াইটা কেবল রাজপথে নয়, পৌঁছে গেছে আদালত এবং নির্বাচন কমিশনের চৌকাঠ পর্যন্ত।

দিল্লিতে ভিন্ন সমীকরণ: এনসিপি-তে বিদ্রোহী সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের বড় ধাক্কা। খবর অনুযায়ী, দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠন করে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি-তে (NCP) যোগদান করেছেন। গত ২৮ মে এনসিপি প্রেসিডেন্ট শিউলি কুন্ডুর পদত্যাগের পরই এই পটপরিবর্তন ঘটে। নতুন সমীকরণে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে উঠে এসেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, যিনি এনসিপি-র রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতদের দাবি, এই যোগদান অবৈধ এবং তিনি সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণার আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কলকাতায় ঋতব্রতর ‘মাস্টারস্ট্রোক’ রাজধানীর বাইরের চিত্রটি আরও ভয়াবহ মমতার জন্য। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রায় ৬৫ জন বিধায়ক প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় মমতার আইনি সংকট বহুগুণ বেড়েছে। ঋতব্রত সরাসরি দাবি করেছেন, এটিই তৃণমূলের ভাঙনের শুরু। তাঁর দাবি, “আসল তৃণমূল কংগ্রেস এখন আমাদের সঙ্গেই আছে।” এই ঘোষণায় দলের ব্লক স্তর পর্যন্ত ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মমতার সামনে দুই রণাঙ্গন ও নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন উভয় সংকটে। তাঁকে একই সঙ্গে দুটি রণক্ষেত্রে লড়াই করতে হচ্ছে:

  • আইনি লড়াই: দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের দলত্যাগ আটকানো এবং কলকাতায় দলের ওপর নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখা।

  • নির্বাচন কমিশনের চ্যালেঞ্জ: নির্বাচন কমিশন যদি প্রতীক বা দলের স্বীকৃতির বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে, তবে তৃণমূলের বর্তমান নির্বাচনী প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সেক্ষেত্রে উভয় গোষ্ঠীকে নতুন প্রতীক নিয়ে লড়তে হতে পারে।

সাঁড়াশি চাপে মমতা দিল্লি এবং কলকাতা—এই দুই প্রান্ত থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমোকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত। রাজনীতির কারবারিদের মতে, যেভাবে শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে বিরোধী শিবিরের তৎপরতা বেড়েছে, তাতে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ ভাঙন শেষ পর্যন্ত মমতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় কঠিন পরীক্ষার কারণ হতে পারে। দল বাঁচানোর এই লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে সামাল দেন, এখন সেটাই দেখার বিষয়।