পুণ্যযাত্রায় চরম পরিণতি! সোলাপুরে পিকআপ ভ্যান জলাধারে পড়ে মৃত ৮ তীর্থযাত্রী

তীর্থযাত্রা শেষে বাড়ি ফেরার আনন্দ নিমেষেই পরিণত হলো বিষাদে। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলায় একটি খোলা জলাধারে যাত্রীবাহী পিকআপ ভ্যান পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ৮ জন তীর্থযাত্রীর। মৃতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পন্ধরপুর তালুকার রঞ্জনি গ্রামের বাসিন্দা সাগর চৌগুল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে মন্দির দর্শনে বেরিয়েছিলেন। মহাসওয়াদের একটি মন্দির দর্শন সেরে ফেরার পথে সোলাপুরের মালশিরাস তালুকার তান্ডুলওয়াড়ির কাছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি জলাধারে পড়ে যায়। স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হলেও শেষরক্ষা হয়নি। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি পন্ধরপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু হাসপাতাল সূত্রে খবর, মৃতদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ছয় মাস বয়সি এক শিশুকন্যা এবং আট বছর বয়সি এক শিশু। এক নিমেষেই গোটা পরিবারের স্বপ্ন ও আশা জলাধারের জলে তলিয়ে গেল।
প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে জলাধারে গাড়িটি পড়েছে, তার চারপাশে কোনো সুরক্ষা প্রাচীর বা প্যারাপেট দেওয়াল ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যদি সময়মতো সেখানে সুরক্ষা প্রাচীর তৈরি করত, তবে হয়তো এই বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এনসিপি বিধায়ক রোহিত পওয়ার এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত উদ্ধারকাজ ও দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন। রাজ্যের মন্ত্রী জয়কুমার গোরেও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, জলাধারের চারপাশের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখা হবে এবং গাফিলতির প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরপর দুর্ঘটনা মাত্র একদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের কাটিহার জেলায় বাসের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। একের পর এক এমন সড়ক দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।