‘আমরা নতুন দলে মিশছি’, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট করলেন কাকলি

লোকসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেত্রী কাকলী ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা এবার আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য একটি রাজনৈতিক দলে মিশে যেতে চলেছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে দলের সংসদীয় অন্দরে চলমান দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ও জল্পনার অবসান ঘটল।

কাকলীর স্বীকারোক্তি ও পরবর্তী পরিকল্পনা রবিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাকলী ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্রোহী সাংসদরা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। সূত্রের খবর, এই দলটির নাম ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’। জানা যাচ্ছে, এই দলবদল সম্পন্ন করার পর সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে তাঁদের পরবর্তী আইনি অবস্থান পরিষ্কার করবেন।

স্পিকারের কাছে কী দাবি? বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, তৃণমূলের সংসদীয় দলের অন্দরে কাজ করা তাঁদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। তাই নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতেই তাঁরা এই দলত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। স্পিকারের কাছে তাঁরা কী কী দাবি জানাচ্ছেন, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না মিললেও, ধারণা করা হচ্ছে—নতুন দলের ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন জানানোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া আইনি চিঠি দিয়ে স্পিকারকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূল একটিই অখণ্ড দল। কিন্তু কাকলীর এই বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে বিদ্রোহীদের দূরত্ব এখন আর আলোচনার পর্যায়ে নেই, বরং তা চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে।

দিল্লির এই রাজনৈতিক ডামাডোল এবং তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।