কলকাতায় মুখ লুকিয়ে ফিরলেও দিল্লিতে সোজা জবাব! দলবদল নিয়ে কী বললেন সায়নী?

এতদিন ছিলেন তৃণমূলের যুব সংগঠনের প্রধান, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন। কিন্তু সব হিসাব উল্টে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী শিবিরেই নাম লেখালেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকে তাঁকে সরানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দিল্লির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেন সায়নী। আর দিল্লিতে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সায়নী দিলেন এক রহস্যময় ইঙ্গিত।
পদ হারালেন সায়নী, নতুন দায়িত্ব অর্ণবের দলীয় সংগঠনের খোলনলচে বদলাতে গিয়ে সায়নী ঘোষকে যুব তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
কলকাতা বিমানবন্দরে ‘নিস্তব্ধতা’, দিল্লিতে ‘বিস্ফোরণ’ দলীয় সংঘাতের খবর চাউর হওয়ার পর গত বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরেছিলেন সায়নী। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা থেকে বাঁচতে সেদিন টুপি ও মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেছিলেন তিনি। সেসময় কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দেননি যাদবপুরের এই সাংসদ। তবে রবিবার সকালে দৃশ্যপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এদিন সকালে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। দিল্লিতে নামার পর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ে সায়নী বলেন, “সময় এলে সব বলব।”
মমতা-অভিষেকের বিশ্বাসভঙ্গ? বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই তৃণমূলের অন্দরে সায়নী ঘোষের অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। দলের সংকটের মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর ভরসা রাখলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি যে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন, তা এখন স্পষ্ট। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় দায়িত্ব পাওয়ার পরেও কেন এমন পথ বেছে নিলেন সায়নী? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচ্য বিষয়।
সায়নীর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী? দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি এবং ‘সময় এলে সব বলব’—এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে বড় কোনো ভাঙনের ইঙ্গিত। সায়নী ঘোষ এখন ঠিক কী খোলসা করতে চলেছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতুহল।