১৩ থেকে ১৫ জুন হাই-অ্যালার্ট! জইশের আত্মঘাতী স্কোয়াড কি ভারতের এই নদী দিয়ে ঢুকছে?

জম্মু ও কাশ্মীর সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LoC) আবারও ঘনিয়ে আসছে বড়সড় জঙ্গি হামলার মেঘ। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভারতের মাটিতে বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ (JeM)। সুনির্দিষ্ট এই গোয়েন্দা তথ্যের পর সীমান্তজুড়ে জারি করা হয়েছে হাই-অ্যালার্ট। সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (BSF) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৩ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে জইশ-ই-মোহাম্মদের একটি ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসী দল ভারতে প্রবেশের চূড়ান্ত ছক কষেছে। সন্ত্রাসীরা জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার অন্তর্গত দলতার-ফরপুর সেক্টরের উঝ নদী (Ujh River) পথ ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ করতে পারে।

সীমান্তের ওপারে ওত পেতে আছে জঙ্গিরা
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশকারী এই জঙ্গি দলটি বর্তমানে পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন ‘চাক কাজিয়ান মাসুর’ এলাকায় একটি গোপন আস্তানায় ঘাঁটি গেড়েছে। তারা কেবল ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের নজর এড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। এই খবর আসামাত্রই বিএসএফ জলপথ, পাহাড়ি খাদ এবং সীমান্তের নিকটবর্তী জঙ্গল এলাকাগুলোতে বিশেষ কম্বিং অপারেশন শুরু করেছে।

প্রযুক্তিগত কড়া নজরদারি: সীমান্তে কোনো প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে জওয়ানরা ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা এবং অত্যাধুনিক নাইট ভিশন সরঞ্জামের সাহায্যে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখছেন।

কী এই ‘লঞ্চ প্যাড’? কেন সজাগ ভারতীয় সেনা?
প্রকৃতপক্ষে, এই লঞ্চ প্যাডগুলো হলো সীমান্তের ওপারে থাকা সন্ত্রাসীদের প্রধান নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও ট্রানজিট ক্যাম্প। এখানে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গিদের এনে রাখা হয় এবং ভারতীয় সীমান্তে পুশ করার আগে শেষ মুহূর্তের ব্রিফিং ও অস্ত্র দেওয়া হয়।

তদন্তে উঠে আসা বিস্ফোরক কিছু তথ্য:

৪২টি জঙ্গি ক্যাম্প চিহ্নিত: গত সপ্তাহে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সক্রিয় থাকা অন্তত ৪২টি সন্ত্রাসী লঞ্চ প্যাড ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিখুঁত অবস্থান (Coordinates) চিহ্নিত করেছে।

২০০ জঙ্গি অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়: নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বর্তমানে পিওকে-র এই ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। বরফ গলা ও নদীপথের সুযোগ নিয়ে তারা যেকোনো মুহূর্তে জম্মু ও কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।

বর্তমানে ভারতের সমস্ত শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা উইং একযোগে কাজ করছে। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অশান্তি ছড়ানোর পাকিস্তানের যেকোনো ধরনের হীন চক্রান্ত ও অনুপ্রবেশের ব্লুপ্রিন্ট ধূলিসাৎ করতে ভারতীয় সেনা ও বিএসএফ পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।