ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান! ট্রাম্পের বড় দাবি ঘিরে ধোঁয়াশা, চুক্তি কি চূড়ান্ত?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘকালীন উত্তেজনার অবসান ঘটেছে এবং তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে, ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় কাটছে না, কারণ ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তির কথা নিশ্চিত করেনি।
ট্রাম্পের দাবি ও প্রত্যাশা:
জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্ট জোন্সের সমর্থনে আয়োজিত এক অনলাইন সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, যা আমরা অর্জন করেছি।” এর আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি জানান, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতিতে এই শক্তিশালী চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ এই শান্তি প্রক্রিয়ায় সমর্থন জানিয়েছে।
সন্দেহের বৃত্তে তেহরান:
ট্রাম্পের দাবির কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থা এক কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, ট্রাম্প গত দুই মাসে ৩৮ বার চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করেছেন। তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, যতক্ষণ না ইরান নিজে থেকে কোনো চুক্তির ঘোষণা দিচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের বক্তব্যকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা উচিত নয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলও এই ধরনের যেকোনো চুক্তি নিয়ে বরাবরই সংশয় প্রকাশ করে আসছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও শর্তাবলি:
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, এই সপ্তাহান্তে ইউরোপে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন। চুক্তির পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মত:
কূটনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেই চুক্তির বেশিরভাগ শর্তে ঐকমত্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপান্তর নিয়ে এখনও যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিকের মতে, “চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার অন্তত ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে।”
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের বড় বড় দাবির আড়ালে বাস্তব চিত্রটা ঠিক কী, তা বুঝতে এখন পরবর্তী কয়েক দিনের পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববাসী।