শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী জাসপাল রানা, ভারতীয় শুটিংয়ে অপূরণীয় ক্ষতি

ভারতীয় ক্রীড়াজগতে এক গভীর শোকের ছায়া। দেশের অন্যতম প্রখ্যাত শুটার এবং এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক বিজয়ী জাসপাল রানা আর নেই। ৪৯ বছর বয়সে দিল্লিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও কোচ।

কীভাবে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা?
সূত্র অনুযায়ী, জার্মানির মিউনিখে সদ্য সমাপ্ত আইএসএসএফ (ISSF) শুটিং বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে ভারতীয় দলের সঙ্গে গিয়েছিলেন জাসপাল রানা। সেখান থেকে ফেরার পথে বিমানেই তিনি বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। দ্রুত তাঁকে দিল্লির সাকেতের ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচার করা হলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (NRAI)-এর সভাপতি কালিকেশ নারায়ণ সিং জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (১১ই জুন) গভীর রাতে হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

এক বর্ণময় ক্যারিয়ার:
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে জন্মগ্রহণকারী জাসপাল রানা ছিলেন নব্বইয়ের দশকের ভারতের শুটিং সেনসেশন। ১৯৯৪ সালের হিরোশিমা এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন।

এশিয়ান গেমস: ৪টি সোনা, ২টি রুপো ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক।

কমনওয়েলথ গেমস: ৯টি সোনা, ৪টি রুপো ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক।
কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর ৯টি স্বর্ণপদক জয় আজও ভারতের জন্য এক অসামান্য রেকর্ড।

কোচ হিসেবে অসামান্য অবদান:
খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে জাসপাল রানা নিজেকে কোচিংয়ে নিয়োজিত করেন। মনু ভাকের, সৌরভ চৌধুরী এবং এশা সিং-এর মতো প্রতিভাবান শুটারদের গড়ে তোলার নেপথ্যে ছিলেন তিনিই। মনু ভাকেরের অলিম্পিক সাফল্যের পেছনে তাঁর কোচিং ও অনুপ্রেরণা ছিল অপরিসীম।

সম্মাননা:
শুটিংয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ‘অর্জুন পুরস্কার’, ১৯৯৭ সালে ‘পদ্মশ্রী’ এবং ২০২০ সালে কোচ হিসেবে ‘দ্রোণাচার্য পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছিলেন।

দেশের তরুণ শুটারদের জন্য তাঁর অকাল প্রয়াণ এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মৃত্যুতে ক্রীড়ামহলে শোকের ঢেউ বইছে। তাঁর পরিবার এবং অনুরাগী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।