‘ফুটপাত জনগণের, কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়!’ হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

নিউ মার্কেট, দমদম, হাওড়া কিংবা যাদবপুর— রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হকার উচ্ছেদ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই জনমানসে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

জনগণের স্বার্থই প্রধান:
আজ নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানান, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার অধিকার জনগণের রয়েছে। সেই ফুটপাত দখল করে রাখার অধিকার কারোর নেই।” তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য, কাউকে বেআইনিভাবে তা দখল করতে দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন, আমি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ। মুষ্টিমেয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে না।”

মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পুনর্বাসনের আশ্বাস:
তবে কড়া বার্তার পাশাপাশি হকারদের জন্য মানবিক সুরও শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যেখানে সরকারের খালি জমি (ভেকেন্ট ল্যান্ড) রয়েছে, যা জনগণের বিশেষ প্রয়োজন নেই, সেখানে হকাররা বসলে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হবে।”

তিনি হকারদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দেন, যে সমস্ত এলাকায় অচল মার্কেট রয়েছে বা উদ্বৃত্ত জায়গা আছে, সেখান থেকে আপাতত সরে যেতে। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম দফতরের অধীনে হকারদের জন্য বিভিন্ন স্কিম রয়েছে, যা কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে জনবহুল এলাকা বা রাস্তার মোড় দখল করে ব্যবসা করার বিষয়টি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

টাটাকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি:
এদিন শিল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শিল্পায়নের লক্ষ্যে টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। সিঙ্গুরের জমি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টাটাকে আমরা এখানে আনবই। সিঙ্গুরের ওই মাটি সিঙ্গুরের মানুষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, আমরা উন্নয়নের স্বার্থে আবার নতুন করে পরিকল্পনা করছি।”

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকায় হকার উচ্ছেদ অভিযান চলছে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন মহলে নানা মত থাকলেও, মুখ্যমন্ত্রী আজ সরাসরি জনগণের হাঁটার অধিকারের পক্ষে সওয়াল করলেন।