বেলডাঙা কাণ্ডে এনআইএ তদন্তে সায় রাজ্য সরকারের, মোথাবাড়ি নিয়ে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

রাজ্যে পালাবদলের পর প্রশাসনিক ও আইনি লড়াইয়ে বড়সড় পরিবর্তন। বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিক মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে এনআইএ (NIA)-এর তদন্তের ওপর যে আইনি বাধা ছিল, তা সরিয়ে নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়ে দিল, তারা এনআইএ তদন্তের বিরুদ্ধে করা আগের মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে বেলডাঙার ঘটনায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হলো।

বেলডাঙা মামলায় ইউএপিএ (UAPA) কি?
মামলার শুনানিতে এনআইএ-র আইনজীবী অরুণ মাইতি জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন বেশ কিছু নতুন নথি ও তথ্য উঠে এসেছে, যা প্রমাণ করে যে এই মামলায় কঠোর ইউএপিএ (UAPA) আইন বলবৎ করা যেতে পারে। হাইকোর্ট এনআইএ-কে আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি সাপ্লিমেন্টারি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এনআইএ-র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে যে এই মামলায় ইউএপিএ ধারা যুক্ত করা হবে কি না। মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ জুন।

মোথাবাড়ি কাণ্ডে কড়া অবস্থানে হাইকোর্ট
অন্যদিকে, মালদার মোথাবাড়িতে বিচারকদের ঘেরাও ও ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বাধা দেওয়ার ঘটনাকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এনআইএ-কে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, মোথাবাড়িতে বিডিও অফিসের বাইরে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করার পেছনে মিম নেতা তথা কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামের উসকানি ছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত নেতা বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। এই মামলার যারা নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন, তাঁদের জামিনের কারণ এবং আইনি ভিত্তি নিয়েও রিপোর্ট চেয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়েও পরবর্তী শুনানি ৩০ জুন নির্ধারিত হয়েছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব
বেলডাঙার ঘটনায় আগের রাজ্য সরকারের আমলে এনআইএ তদন্ত রুখতে মরিয়া চেষ্টা চালানো হয়েছিল। নতুন সরকারের এই ‘মামলা প্রত্যাহার’ ও তদন্তে সহযোগিতার সিদ্ধান্তকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের এই নতুন অবস্থান কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর ওপর রাজনৈতিক চাপ যে কমেছে, তারই ইঙ্গিতবাহী।