স্কুল শিক্ষকদের টিউশন বন্ধের নির্দেশ! মাঝপথে পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত পড়ুয়ারা, দ্বারস্থ বিধায়কের

রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বর্তমান সরকার। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই অভ্যাস বন্ধ করতে শুরু হয়েছে নজরদারিও। কিন্তু এই নিয়মের কড়াকড়িতে চরম বিপাকে পড়েছেন দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা। সামনের পরীক্ষাকে সামনে রেখে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলইয়ের কাছে ডেপুটেশন জমা দিলেন পড়ুয়াদের একটি অংশ।

পড়ুয়াদের দাবি ও হতাশা
পরীক্ষার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের মতে, এই মুহূর্তে টিউশন বন্ধ হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। চন্দ্রকোনার এক ছাত্রের কথায়, “আমাদের সেমিস্টার পরীক্ষার আর মাত্র দুমাস বাকি। এই অবস্থায় শিক্ষক বদলে নেওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া আমাদের এলাকায় সায়েন্স বিভাগের উন্নত মানের শিক্ষার জন্য স্কুলের শিক্ষকদের ওপরই আমাদের ভরসা করতে হয়।”

একই সুর শোনা গেল ছাত্রী অঙ্কিতা চৌধুরীর গলায়। তিনি বলেন, “দশ কিলোমিটার দূর থেকে আমি এখানে পড়তে আসি। এখানে এমন কোনো বিকল্প প্রাইভেট টিউটর নেই যিনি আমাদের এই স্তরের শিক্ষা দিতে পারবেন। তাই মাঝপথে এই ব্যবস্থা বন্ধ হলে আমাদের অন্য পথে হাঁটতে হবে।”

বিধায়কের ভূমিকা
পড়ুয়াদের এই আকুতি শুনে বিধায়ক সুকান্ত দোলই তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের এই সমস্যার কথা তিনি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং বিষয়টি দ্রুতই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজরে আনবেন। বিধায়কের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

কেন এই চাপানউতোর?
একদিকে সরকারি নিয়ম কঠোরভাবে পালন করতে সরকার বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে অভিভাবকদের একাংশ এবং পড়ুয়াদের দাবি, স্কুলের শিক্ষকদের টিউশনই তাঁদের ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই সংস্কৃতি হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় যে তৈরি হওয়া শূন্যতা, তা নিয়েই এখন রাজ্য জুড়ে অস্বস্তি। একদিকে শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে পরীক্ষার মুখে থাকা লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাটাই এখন সরকারের কাছে বড় পরীক্ষা।

এই পরিস্থিতি আদতে কোন দিকে মোড় নেয়, বা সরকার কোনো ছাড় দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।