উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বিদায় নেবে AFSPA! আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা অমিত শাহের

উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী বছরের মধ্যেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সমগ্র এলাকা থেকে ‘আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা আফস্পা (AFSPA) সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে মোদী সরকার।
কী জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?
অমিত শাহ জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত কয়েক বছরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। তাঁর কথায়, “একসময়ে যে অঞ্চলকে সংঘর্ষ ও অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করা হতো, আজ সেখানে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে এই বিতর্কিত আইন তুলে নেওয়া হয়েছে। মূলত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একাধিক শান্তি চুক্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নতির ফলেই এই পরিস্থিতি সম্ভব হয়েছে।
মণিপুরের অশান্তি ও বাস্তবতা
উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে আফস্পা প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হলেও, মণিপুরের সাম্প্রতিক জাতিগত সংঘর্ষ এবং অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মণিপুরে চলা অশান্তি এবং সাম্প্রতিক কিছু হামলার ঘটনা কেন্দ্রের চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রের অভিযোগ, কিছু বহিরাগত শক্তি ও জঙ্গি সংগঠন পরিকল্পিতভাবে এই অস্থিরতা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তবে এসব সত্ত্বেও সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্র তার সিদ্ধান্তে অবিচল।
অর্থনৈতিক প্রগতির ইঙ্গিত
দিল্লিতে অসম ও নাগাল্যান্ড সরকারের সঙ্গে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় না থাকলে এই ধরনের বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন অসম্ভব ছিল। শান্তিই যে উন্নয়নের একমাত্র চাবিকাঠি, এই চুক্তি তারই প্রতিফলন।
আফস্পা প্রত্যাহার: এক নতুন অধ্যায়
আফস্পা হলো এমন একটি আইন যা বিশেষ পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীকে ‘অশান্ত এলাকা’-য় বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে। এই আইন প্রত্যাহার উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের কাছে এক দীর্ঘদিনের দাবি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে উত্তর-পূর্ব ভারত এখন এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে, আর এই আইন প্রত্যাহার সেই পরিবর্তনেরই অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।