গোয়েন্দা প্রধান পদে বড় চমক ট্রাম্পের! বিতর্কের মুখে ‘অভিজ্ঞ’ জে ক্লেটনকে কেন বেছে নিলেন প্রেসিডেন্ট?

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান বা ‘ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’ (DNI) পদে নতুন মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জে ক্লেটনের নাম ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প জানিয়েছেন, আইন জগতে অত্যন্ত সম্মানিত ক্লেটনকে যত দ্রুত সম্ভব সিনেটের অনুমোদন দেওয়া উচিত।
কেন এই আকস্মিক রদবদল?
সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হিসেবে বিল পুলটেক-এর নাম সামনে আসতেই ওয়াশিংটনে তোলপাড় শুরু হয়। পুলটেককে ট্রাম্পের অতি ঘনিষ্ঠ এবং ‘লিটল ট্রাম্প’ বলা হলেও, জাতীয় নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা বিষয়ক অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় শিবিরই তীব্র আপত্তি জানায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের শীর্ষস্থানীয় আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের কাছে একজন অভিজ্ঞ ও স্থায়ী প্রার্থীর দাবি জানান। সেই চাপের মুখেই জে ক্লেটনকে বেছে নিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
কে এই জে ক্লেটন?
জে ক্লেটন একজন প্রবীণ কর্পোরেট আইনজীবী। তাঁর অতীত রেকর্ড বেশ নজরকাড়া:
এসইসি প্রধান: ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC)-এর নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা: বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর আমলে সহিংস অপরাধ এবং মাদক-সংক্রান্ত মামলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান প্রশংসিত হয়েছে।
হাই-প্রোফাইল মামলা: ওয়াল স্ট্রিটের ইনসাইডার ট্রেডিং থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাসের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর—ক্লেটনের দক্ষতা নিয়ে ট্রাম্পের কোনো সংশয় নেই।
কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ?
সিনেটের অনুমোদন মিললে ক্লেটন তুলসি গ্যাবার্ডের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি গত মাসে পদত্যাগ করেছিলেন। ৯/১১ হামলার পর তৈরি হওয়া এই ডিএনআই পদটি আমেরিকার ১৮টি বড় গোয়েন্দা সংস্থার দেখভাল করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিতর্ক ও ঘন ঘন পদত্যাগের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটি এমনিতেই বেশ চাপে রয়েছে। তাই ক্লেটনের মতো একজন অভিজ্ঞ ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আস্থাভাজন ব্যক্তির আগমনকে মার্কিন গোয়েন্দা মহলের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
সিআইএ প্রধান হওয়ার প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জে ক্লেটনের ওপর গোয়েন্দা বিভাগের অভিভাবকত্বের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করলেন ট্রাম্প। এখন সিনেটের বারান্দায় এই নিয়োগ কত দ্রুত ছাড়পত্র পায়, সেটাই দেখার অপেক্ষা।