মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় মৃত ৩ ভারতীয় নাবিক! ওয়াশিংটনের কাছে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতি এবার সরাসরি আঘাত হানল ভারতীয় নাগরিকদের ওপর। ওমান উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর টানা তিনদিনের অভিযানে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নয়াদিল্লি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও প্রাণঘাতী ঘটনার পর মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কী ঘটেছে গত চার দিনে?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, ৮ জুন থেকে ১১ জুনের মধ্যে ‘মারিভেক্স’, ‘সেত্তেবেলো’ এবং ‘জলবীর’—এই তিনটি জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে।

৮ জুন: ২৪ জন ভারতীয় নাবিকবাহী পালাউ-পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার ‘মারিভেক্স’ ধ্বংস করে মার্কিন বাহিনী। তবে সৌভাগ্যবশত সকল নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

১০ জুন: পালাউ-পতাকাবাহী আরেকটি ট্যাঙ্কার ‘সেত্তেবেলো’-তে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।

১১ জুন: গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ২০ জন ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজ ‘জলবীর’ আক্রান্ত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, এই জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।

দিল্লির তীব্র প্রতিক্রিয়া
ভারত সরকার এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ভারতের পক্ষ থেকে একটি কূটনৈতিক নোট (Demarche) দেওয়া হয়েছে। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট বলেন, “আমাদের নাবিকদের জীবন ও নিরাপত্তা আমাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই ধরনের হামলা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।”

ভারত দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, বিরোধ মেটানোর একমাত্র পথ হলো কূটনৈতিক সংলাপ। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন মেনে বাধামুক্ত ও মুক্ত রাখতে হবে।

কেন লক্ষ্যবস্তু করা হলো জাহাজগুলো?
মার্কিন ট্রেজারির ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ (OFAC)-এর নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ইরান ও রাশিয়ার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে মার্কিন নৌবাহিনী। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে, আক্রান্ত জাহাজগুলোর কোনোটিই ভারতীয় মালিকানাধীন ছিল না, তবে সেগুলোতে ভারতীয় নাবিকরা কর্মরত ছিলেন।

নিহত তিন নাবিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ভারত সরকার ‘সিম্যান ওয়েলফেয়ার ফান্ড সোসাইটি’-র মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে।

নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ভারত সরকার তার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।