শেয়ার বাজারে রকেট গতি! ট্রাম্পের ‘ম্যাজিক’-এ মাত্র কয়েক মিনিটে বিনিয়োগকারীদের আয় ৬ লক্ষ কোটি টাকা

শুক্রবার সকালে ভারতীয় শেয়ার বাজারে যেন উৎসবের মেজাজ। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সেনসেক্স এবং নিফটি রেকর্ড গতিতে দৌড় শুরু করতেই বাজারে ফিরেছে প্রবল ইতিবাচক হাওয়া। এদিন বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স ৯৬৭ পয়েন্ট লাফিয়ে ৭৪,৭৯৯-এর গণ্ডি স্পর্শ করে। সেই একই পথে হেঁটে নিফটি ২৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৩,৪৩৭ পয়েন্ট ছাড়িয়ে যায়। এই অভাবনীয় উত্থানে কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের সম্পদ ৬ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে গেছে।

ট্রাম্পের ‘ম্যাজিক’ বিবৃতিতে বাজার চাঙ্গা
শেয়ার বাজারের এই তীব্র উত্থানের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি চাঞ্চল্যকর ঘোষণা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যায়। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্য পথ পুনরায় খুলে যাবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির খবর।

স্মল ও মিড-ক্যাপ স্টকে বড় লাফ
আজকের এই র‍্যালিতে শুধু লার্জ-ক্যাপ নয়, স্মল-ক্যাপ এবং মিড-ক্যাপ স্টকেও ব্যাপক কেনাকাটা দেখা গেছে। নিফটি মিডক্যাপ সূচক ১.৩৮ শতাংশ এবং নিফটি স্মলক্যাপ সূচক ১.৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো, শ্রীরাম ফাইন্যান্স এবং ইন্টারগ্লোব এভিয়েশনের মতো স্টকগুলো আজ দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে রিয়েলটি, অটো এবং মিডিয়া সেক্টর অনেকটা এগিয়ে থাকলেও, আইটি, হেলথকেয়ার এবং ফার্মা খাত কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে।

শক্তিশালী রুপি, স্বস্তি আমদানিকারকদের
শেয়ার বাজারের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও সুসংবাদ। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির দাম ৩৭ পয়সা বেড়ে ৯৫.৩৮ টাকা হয়েছে। রুপির এই শক্তিশালী অবস্থান আমদানিকারকদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এশিয়ার বাজারের ছবি
দেশীয় বাজার যখন জয়ের উল্লাসে মেতেছে, তখন এশিয়ার অন্যান্য বাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ২,০০০ পয়েন্টের বিশাল লাফ দিয়েছে এবং কোরিয়ার কোস্পি ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের বাজারের চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে সূচক ৬৮২ পয়েন্ট কমেছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারের অস্থিরতা কাটিয়ে শুক্রবারের এই উত্থান সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক বাজারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এই ইতিবাচক ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকতে পারে।