মমতার বিরুদ্ধে বড় বিদ্রোহ! আলাদা ব্লকের পথে তৃণমূলের ২০ সাংসদ? তোলপাড় রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন দলের ২০ জন প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদ। নিউজ১৮-এর হাতে আসা একটি চাঞ্চল্যকর নথিতে দেখা যাচ্ছে, ওই সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে লোকসভায় আলাদা ব্লক গঠনের আর্জি জানিয়েছেন।

বিদ্রোহীদের তালিকায় কারা?
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব (দীপক অধিকারী), সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, পার্থ ভৌমিক, ইউসুফ পাঠান সহ মোট ২০ জন সাংসদ। তালিকায় আরও রয়েছেন বাপি হালদার, ডা. শর্মিলা সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বর্মা বসনিয়া, অসিত কুমার মাল, অরূপ চক্রবর্তী, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, মিতালি বাগ, মালা রায় এবং কালিপদ সোরেন।

কেন এই বিদ্রোহ?
বিদ্রোহী সাংসদদের ঘনিষ্ঠমহল সূত্রে খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও দলের বর্তমান কার্যপদ্ধতি নিয়ে তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্নতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল ও সরকার পরিচালনায় বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, যার ফলে দলে দুর্নীতির প্রকোপ বাড়ছে।

অভিষেকের প্রভাব: দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিদ্রোহীরা।

দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর কৌশল?
এই বিদ্রোহের অন্যতম কৌশলী দিক হলো ‘চিফ হুইপ’ সংক্রান্ত বিতর্ক। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারই তৃণমূলের বৈধ চিফ হুইপ। সাংসদদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সরিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিফ হুইপ করার কথা বললেও, সেই সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি লোকসভা সচিবালয়ে জমা পড়েনি। ফলে, এই আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে সুরক্ষা পেতে চাইছেন এবং প্রয়োজনে এনডিএ-কে সমর্থন করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

তীব্র রাজনৈতিক সংকট:
বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে এই বিদ্রোহ দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। লোকসভায় আলাদা ব্লক গঠনের এই উদ্যোগ সফল হলে তা রাজ্যের শাসক দলের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা স্পিকারের দপ্তর থেকে এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনা যে বাংলার রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সূচনা করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।